বর্ণপুরে উচ্ছেদ অভিযানে বিক্ষোভ, পুনর্বাসনের দাবিতে রাস্তায় বাসিন্দারা

আসানসোল: বর্ণপুর এলাকায় সেল আইএসপি-র উদ্যোগে চলতে থাকা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখল করা জমিতে গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং একাধিক এলাকায় জোরকদমে ধ্বংসাত্মক অভিযান চালানো হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বর্ণপুরের সুইপার কলোনির বাসিন্দাদের কাছেও নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জায়গা খালি না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিস পাওয়ার পর থেকেই কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু বছর ধরে বসবাস করা নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি, কোনও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা মানবিক নয়।

মঙ্গলবার বহু সংখ্যক বাসিন্দা বর্ণপুর টাউন অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তুলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং দাবি জানান, আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হোক।

প্রতিবাদকারীরা জানান, তারা উন্নয়নের বিরোধী নন, কিন্তু তাদের মাথার ওপর ছাদ কেড়ে নেওয়া হলে তারা কোথায় যাবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকে দিতে হবে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন এবং বিদ্যুৎ, পানীয় জলসহ একাধিক পরিষেবা পাচ্ছেন, তবুও তাদের ‘অবৈধ’ বলে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।

এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযানে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়নের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্ণপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে, বাসিন্দারা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন—পুনর্বাসনের আশ্বাস মিলবে, নাকি উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে।

Leave a comment