জামুড়িয়া: পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া এলাকায় আবারও কথিত কয়লা ডিও সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর বিভিন্ন খনি ও সাইডিং থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি টনে ১৫০ টাকা করে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে।
যদিও এই অভিযোগগুলির এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি, তবুও একাধিক ব্যবসায়ীর মুখে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
📌 কোথায় কোথায় উঠছে অভিযোগ?
সূত্রের খবর, জে কে নগর সাইডিং, কুনুস্তোরিয়া কোলিয়ারি, বেলবাদ সাইডিং, বাসড়া এবং নর্থ সিয়ারসোল-সহ একাধিক প্রকল্পে এই অবৈধ তোলার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মারধর এবং চালান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ।

📌 আগে হয়েছিল বড়সড় অভিযান
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কয়লা ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালানো হয়েছিল। কিছুদিন আগে কথিত ডিও সিন্ডিকেট মামলায় বিজয় সিং-সহ ১৪ জনের গ্রেফতারের পর মনে করা হয়েছিল যে এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসায় ফের প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
📌 রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
এই ঘটনায় জামুড়িয়া বিধানসভার বিজেপি নেতা ব্রিজমোহন পাসওয়ান অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু চক্র আবারও ডিও সিন্ডিকেটকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনওভাবেই অবৈধ তোলা বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান।
📌 প্রশ্নের মুখে বাস্তবতা না রাজনীতি?
বর্তমানে বড় প্রশ্ন—আসলেই কি ডিও সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়েছে, নাকি এটি রাজনৈতিক তরজা? যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়, তবুও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
👁️🗨️ এখন নজর প্রশাসনের দিকে
পুরো ঘটনার উপর এখন ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে। প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপই স্পষ্ট করবে, এই অভিযোগের পিছনে কতটা সত্যতা রয়েছে।

