কলকাতা:
দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবারও বাংলার প্রশাসনিক হৃদয় হিসেবে ফিরে আসছে রাইটার্স বিল্ডিং, যা সাধারণভাবে ‘মহাকরণ’ নামেই পরিচিত। রাজনৈতিক পালাবদলের পর লালদিঘির ধারে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক লাল ভবনে ফের শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী ভবন থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন। ইতিমধ্যেই ভবনের সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
🏛️ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্যাবর্তন?
২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ ছেড়ে হাওড়ার নবান্ন ভবন থেকে প্রশাসন চালানো শুরু করেন। তখন বলা হয়েছিল কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ফেরা হবে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে লেগে গেল প্রায় দেড় দশক।
এই দীর্ঘ সময়ে মহাকরণের বহু অংশ কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। যদিও সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, কাজ খুব ধীর গতিতেই চলছিল।
🚧 বদলে যাচ্ছে মহাকরণের চেহারা
৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মহাকরণের সংস্কার কাজ জোরদার করা হয়। ৮ মে-র পর থেকে ভবনের চেহারায় দ্রুত পরিবর্তন চোখে পড়ছে—
- নতুন করে রং ও সংস্কার
- কর্মচারীদের যাতায়াত বেড়েছে
- সাংবাদিকদের আনাগোনা শুরু
- পুরো ভবন সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়
এমনকি প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সহ বিভিন্ন বিজেপি নেতার ছবি দিয়ে বড় ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে। পুরনো ফলকও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
👥 প্রশাসনিক কার্যকলাপ ফের সক্রিয়
এক সময় এই মহাকরণেই ছিল প্রায় ৩৪টি দফতর এবং প্রায় ৬ হাজার কর্মচারীর কর্মস্থল। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও অর্থসচিব—সবাই একই ভবন থেকেই রাজ্যের শাসন চালাতেন।
বর্তমানে যদিও কয়েকটি ছোট দফতর ছাড়া প্রায় সব কিছুই বন্ধ ছিল, তবে এখন আবার সেই পুরনো ব্যস্ততা ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
🪑 নতুন কক্ষে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেখানে একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসে প্রশাসন চালাতেন, সেই ঘরে বসবেন না শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জন্য দ্বিতীয় তলায় একটি নতুন আধুনিক কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে।
⚡ ধীরে ধীরে ফিরবে পুরনো গৌরব
লোক নির্মাণ দফতরের একটি শাখা ইতিমধ্যেই ভবনের একাংশে স্থানান্তরিত হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ও নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। তবে পুরো মহাকরণকে রাতারাতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
👉 তবুও একথা স্পষ্ট—এটি শুধু একটি ভবনের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার, রাইটার্স বিল্ডিং কি আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পায়, নাকি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।















