ক্ষমতা বদলের পর কালী মন্দিরে দণ্ডবৎ প্রণাম—আস্থার নজির গড়লেন সোমু ভান্ডারী

single balaji

আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার সামনে এল ভক্তি, বিশ্বাস এবং অদম্য সংকল্পের এক বিরল দৃষ্টান্ত। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা সোমু ভান্ডারী নিজের করা মন্নত পূরণ করতে প্রায় দুই কিলোমিটার দণ্ডবৎ প্রণাম করতে করতে পৌঁছে গেলেন ঘাঘর বুড়ি কালী মন্দিরে। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের পায়ে প্রণাম করে বিশেষ পুজো অর্চনা করেন।

জানা গিয়েছে, সোমু ভান্ডারী দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে বাড়তে থাকা হিংসা, দুর্নীতি এবং স্থানীয় স্তরে প্রভাবশালীদের দাপটে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে যখন তিনি বরাবনী এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান, তখন সেখানকার পরিবেশ দেখে তাঁর মনে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল হয়ে ওঠে।

এরপর তিনি ঘাঘর বুড়ি কালী মন্দিরে গিয়ে মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি মন্নত করেন—যদি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হয়, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন এবং বরাবনী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অর্জিত রায় বিজেপি বিধায়ক নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি দণ্ডবৎ যাত্রা করে মন্দিরে এসে পুজো দেবেন।

মন্নত পূরণ হওয়ার পর নিজের প্রতিশ্রুতি রাখলেন সোমু ভান্ডারী। বাড়ি থেকে মন্দির পর্যন্ত পুরো পথ তিনি মাটিতে শুয়ে শুয়ে, প্রতিটি ধাপে দণ্ডবৎ প্রণাম করতে করতে অতিক্রম করেন। এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য—গরম, ধুলো, শারীরিক যন্ত্রণা সবকিছুকে উপেক্ষা করেও তাঁর ভক্তি এক মুহূর্তের জন্যও টলেনি।

মন্দিরে পৌঁছে তিনি বিধি মেনে বিশেষ পুজো করেন এবং মা কালীর আশীর্বাদ নেন। এই দৃশ্য দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় বহু মানুষ। অনেকেই তাঁর এই অদম্য বিশ্বাস ও ভক্তিকে প্রণাম জানান।

এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় সোমু ভান্ডারী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ঘটনা নয়, বরং অটুট বিশ্বাস, দৃঢ় সংকল্প এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার এক বিরল উদাহরণ।

আজকের দিনে যেখানে মানুষ সহজেই নিজের কথা ভুলে যায়, সেখানে সোমু ভান্ডারী প্রমাণ করে দিলেন—সত্যিকারের বিশ্বাস থাকলে কঠিনতম পথও অতিক্রম করা যায়।

ezgif 22b6a523914e707e
ghanty

Leave a comment