আসানসোলের কোর্ট মোড় এলাকায় অবস্থিত অম্বিকা টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ফ্ল্যাটের মালিক পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ববিতা দাস-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন—তাঁদের দাবি, ফ্ল্যাট খালি করাতে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, ঝাঁঝরা পান্ডেশ্বরের বাসিন্দা মহেন্দ্র আগরওয়াল ও দুলারি আগরওয়াল প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের এই ফ্ল্যাটটি কলকাতার বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার-কে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, গত ১৪ বছর ধরে এক টাকাও ভাড়া দেওয়া হয়নি।
মালিক পক্ষের দাবি, যখনই তাঁরা ভাড়া চেয়েছেন, তখনই তৃণমূল কাউন্সিলর ববিতা দাসের নাম করে তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। এমনকি ২০১৭ সালে এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবে সেই সময় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।
🔥 “এবার আর চুপ নয়”—বদলানো পরিস্থিতিতে সরব সাধারণ মানুষ
ফ্ল্যাট মালিকদের কথায়, বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর ফলে সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন। সেই সাহস নিয়েই তাঁরা ফ্ল্যাটটি খালি করাতে গেলে ঘটনাস্থলে তীব্র বচসা ও হাঙ্গামা শুরু হয়।
ঘটনাটি অম্বিকা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ঘটে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে।
⚖️ রাজনৈতিক রং লাগল ঘটনায়
এই ঘটনার জেরে রাজনীতিও গরম হয়ে ওঠে। বিজেপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্পষ্ট জানান, কোনও অবস্থাতেই মারপিট হওয়া উচিত নয় এবং পুলিশ আইন মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি তাঁরা সতর্ক করে দেন, কেউ যেন বিজেপির নাম ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা না করে।
তাঁদের বক্তব্য, “সবাইকে একসাথে কাজ করে বাংলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।”
🧩 বড় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—একজন সাধারণ নাগরিক কি নিজের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করতে পারছেন? রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কি প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে?
এখন গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ফ্ল্যাট বিতর্ক শুধু একটি ব্যক্তিগত বিবাদ নয়—এটি এখন সাধারণ মানুষের অধিকার বনাম রাজনৈতিক প্রভাবের এক বড় লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।















