সালানপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের বরাভুঁই গ্রাম থেকে সরকারি উদাসীনতার এক চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এসেছে। ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জন্য নিকটবর্তী এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২৩ বছর পর সেই কেন্দ্র আজ সম্পূর্ণ অচল এবং ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে, দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, আর সর্বত্র অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল—যে জায়গায় একসময় রোগীদের চিকিৎসা এবং ওষুধ বিতরণ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন গবাদি পশুর খড় ও ভূষি মজুত করা হচ্ছে।
সন্ধ্যা নামলেই অসামাজিক কার্যকলাপের আসর
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে রয়েছে। শুধু খড় রাখাই নয়, গ্রামবাসীদের দাবি—সন্ধ্যা হলেই এখানে অসামাজিক ব্যক্তিদের আনাগোনা শুরু হয়। নিয়মিত জুয়া খেলা এবং মদ্যপানের আসর বসে, যা গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
একজন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বলেন, “এই কেন্দ্রটি আমাদের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন এখানে প্রতিদিন জুয়া খেলা হয় এবং খড় রাখা হয়েছে। যদি সরকার এই কেন্দ্রটি সংস্কার করে আবার চালু করে, তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষদের চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হবে না।”
‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাছে নতুন আশা
দীর্ঘদিনের এই অবহেলার পর এখন গ্রামবাসীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর বরাভুঁই গ্রামের আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন—এই জরাজীর্ণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় চালু করতে হবে।
গ্রামবাসীদের দাবি, এখানে নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ করা হোক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে স্থানীয় মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পান।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই গুরুতর সমস্যার সমাধানে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সালানপুরের এই প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ আবার তাদের হারানো স্বাস্থ্য পরিষেবা ফিরে পায় কি না।

