রূপনারায়ণপুর: রাজ্যজুড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)। সোমবার, ১৩ জুলাই সিপিআই(এম)-এর সালানপুর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে রূপনারায়ণপুর বিদ্যুৎ বিতরণ দফতর (ডব্লিউবিএসইডিসিএল ওসিসি)-এর সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
সিপিআই(এম) নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনকে উপেক্ষা করে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের উপর জোর করে ‘জনবিরোধী’ স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং দিনমজুর মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন দলীয় কর্মীরা দাবি করেন, বিদ্যুৎ কোনও বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি একটি অত্যাবশ্যক জনপরিষেবা। তাই এর উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার কোনও স্থান থাকা উচিত নয়।
৯ দফা দাবিতে সরব বাম নেতৃত্ব
বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া স্মারকলিপিতে মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের ৪৭(২) ধারার অধীনে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হতে হবে; কোনও অবস্থাতেই গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া জোর করে মিটার বসানো যাবে না।
এছাড়া স্মার্ট মিটারকে পোস্টপেইড মোডে চালু না করা, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেলের মাধ্যমে বিল পাঠানোর প্রথা বন্ধ করে কাগজের বিল চালু রাখা, স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য অতিরিক্ত ভাড়া বা সার্ভিস চার্জ না নেওয়া এবং গ্রাহকদের ইচ্ছা অনুযায়ী পুরনো মিটার চালু রাখার অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুতের দর কমাতে হবে এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি সালানপুর ব্লকে বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং অবিলম্বে রাত্রিকালীন পরিষেবা চালু করার দাবি তোলা হয়েছে।
দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এই কর্মসূচিতে সিপিআই(এম) নেতা দেবাশিস দে, মনোজ দত্ত, প্রদীপ দত্ত, সুব্রত চ্যাটার্জি এবং তপসী চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরযুক্ত স্মারকলিপি রূপনারায়ণপুরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তারা।
স্থানীয় মহলের মতে, স্মার্ট মিটার নিয়ে এই বাড়তে থাকা অসন্তোষ ভবিষ্যতে বড় আকার ধারণ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সাধারণ মানুষ কোনও স্বস্তি পায় কি না।

