রেড রোডে যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রী, যোগেই খুলছে নতুন ক্যারিয়ারের দিগন্ত

কলকাতা: আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে গোটা দেশের সঙ্গে কলকাতাতেও বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যিনি কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তুঙ্গে, এবং হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা এবং সুসংগঠিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে কলকাতার প্রায় ১২৫টি সরকারি ও বেসরকারি স্কুল থেকে অন্তত ৩০ জন করে ছাত্রছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় সহ একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবে না, তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ দিবস পালন করে তার ভিডিও শিক্ষা দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যজুড়ে একযোগে যোগচর্চার এক বিশেষ আবহ তৈরি হতে চলেছে।

যোগ এখন ক্যারিয়ারের নতুন দিশা

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকতে যোগচর্চার গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। শুধু স্বাস্থ্য নয়, এখন যোগ একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে।

কীভাবে শুরু করবেন যোগে পড়াশোনা?

যোগ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে হলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা আবশ্যক। যে কোনও বিভাগের ছাত্রছাত্রী এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। তবে এখানে ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি, তাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি।

উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতক স্তরে বিএ বা বিএসসি ইন যোগ করা যায়। এরপর স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যোগ থেরাপি, যোগ শিক্ষা, স্পোর্টস কোচিং প্রভৃতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সও করা যায়।

কোথায় পড়বেন যোগ বিজ্ঞান?

পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ রয়েছে।

রোজগারের সুযোগ কতটা?

যোগে পড়াশোনা শেষ করে যোগ প্রশিক্ষক, যোগ থেরাপিস্ট বা ফিটনেস বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা যায়। বড় হাসপাতাল, ওয়েলনেস সেন্টার এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পেও যোগ বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া নিজের যোগ কেন্দ্র খুলেও ভালো আয় করা সম্ভব।

নতুন প্রজন্মের জন্য বড় বার্তা

এই যোগ দিবস শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি যোগের মাধ্যমে গড়ে তোলা যায় একটি সফল ভবিষ্যৎ।

কলকাতার এই মহা আয়োজন প্রমাণ করে দিচ্ছে, আগামী দিনে যোগ শুধু জীবনযাত্রার অংশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী পেশাগত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে।

Leave a comment