কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে একের পর এক বড় ঘোষণা সামনে এল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করে জানান, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার।
১ লক্ষ সরকারি চাকরি, মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ
রাজ্যে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ২০ হাজার পদ পুলিশ বিভাগে এবং ৫০ হাজার পদ শিক্ষা ক্ষেত্রে পূরণ করা হবে। অন্যান্য দফতরেও নিয়োগ হবে। পাশাপাশি, যেখানে প্রযোজ্য সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
ডিএ বেড়ে ৩৮%—সরকারি কর্মীদের বড় স্বস্তি
সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮ শতাংশ ডিএ বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ করা হবে, যা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
৫ নতুন জেলা ও প্রশাসনিক রদবদল
রাজ্যে নতুন করে ৫টি জেলা গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে—কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। এছাড়া কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা এবং গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কল্যাণীতে নতুন গ্রীনফিল্ড বিমানবন্দর
কলকাতার কাছে কল্যাণী এলাকায় ১০০০ থেকে ১৫০০ একর জমিতে নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদায় বিমানবন্দর উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবসার জন্য নতুন আইন
ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট চাঁদা ও জোরপূর্বক আদায় থেকে রক্ষা করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা ও যুবদের জন্য বড় উদ্যোগ
প্রতিটি জেলায় ফ্রি কোচিং সেন্টার খোলা হবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। ‘ভরসা’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার স্নাতকদের মাসে ৩০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের ২০০০ টাকা দেওয়া হবে।
দুর্গাপুজোকে বিশ্বমঞ্চে তোলার পরিকল্পনা
দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে।
মহিলা ও সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক সুবিধা
মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস পরিষেবা চালু রাখতে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু করা হবে। বৃদ্ধ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অবকাঠামো ও উন্নয়নে জোর
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সৌর শক্তি, সুন্দরবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মুরিগঙ্গা সেতু নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ করা হয়েছে।
রাজ্যের ঋণও বড় চ্যালেঞ্জ
অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। তবে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
সার্বিকভাবে কী বলছে বাজেট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেট কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ঋণের চাপ ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই বাজেট বাংলার উন্নয়নের এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।


