কুলটি: পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি এলাকায় টানা দু’দিনে দুই অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত কুলটি থানার এলাকায় এই ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কুলটির বারিরা এলাকা থেকে প্রথম একটি অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালে আবারও সামনে আসে আরও এক রহস্যময় খবর। কুলটির পুনুড়ি এলাকার জঙ্গল সংলগ্ন অঞ্চল থেকে এক যুবকের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কুলটি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কুলটি থানার আধিকারিক অশোক সিং মহাপাত্র, কুলটির এসিপি শেখ জাভেদ হুসেন এবং নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ মিহির কুমার দে সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। তারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেন এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, মৃতদেহটি বেশ কয়েকদিন আগের হতে পারে, কারণ তা পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। তবে এটি খুন নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে টানা দু’দিনে একই থানা এলাকায় দুই অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে এবং রাতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের পরিচয় জানার জন্য আশেপাশের থানাগুলিতে খবর পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলের আশেপাশে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই রহস্যময় ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন। খুব শীঘ্রই ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলে আশাবাদী পুলিশ। তবে আপাতত কুলটি জুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই দুই মৃত্যুর মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র রয়েছে?
👉 ঘটনার আপডেট পেতে চোখ রাখুন, কারণ এই রহস্য আরও গভীর হতে চলেছে















