দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন-কে কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ জানাল বিজেপি কর্মীরা। দুর্গাপুর হাউসের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কিছুক্ষণের জন্য চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
🚨 কীভাবে ঘটল ঘটনা?
সূত্রের খবর, ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের দুর্গাপুর হাউসে কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাইরে বেরোতেই দোলা সেন-এর গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সেই সময় কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকে, যা মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
👮 পুলিশের তৎপরতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পড়ে। নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে দোলা সেনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না মিললেও কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
🗣️ বিজেপির অভিযোগ
বিজেপি কর্মী জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা বিজেপির কাছে আসার চেষ্টা করছেন—তারই প্রতিবাদে এই কর্মসূচি। তাঁর অভিযোগ, দোলা সেন ওই সব ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত, তাই তাঁর বিরুদ্ধেই এই কালো পতাকা দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
🔍 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, দোলা সেন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং প্রায় দেড় দশক ধরে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শ্রমিক রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করা হয়।
⚡ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাতেরই প্রতিফলন এই ঘটনা। আগামী দিনে এই ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
❗ তৃণমূলের নীরবতা
এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


