কাঁকসা: পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসায় নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন এক মহিলা বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)। তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ছবি সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।
⚠️ মিছিলের মাঝেই দেখা গেল বিএলও
শনিবার গলসি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি-র সমর্থনে রোড শো করেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
সেই রোড শো-তেই এক মহিলা বিএলও—চৈতালি রায়—কে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিজেপির দাবি, তিনি গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৫ নম্বর পার্টের বিএলও এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কর্মরত। ফলে তাঁর এভাবে রাজনৈতিক মিছিলে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের সামিল।
📩 নির্বাচন কমিশনে বিজেপির অভিযোগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্ব ছবি সহ নির্বাচন কমিশনের কাছে ইমেল মারফত অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন,
👉 “একজন বিএলও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থেকে কীভাবে শাসক দলের মিছিলে অংশ নেন? এটা সরাসরি নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন,
👉 “আমরা আগেই বলেছিলাম, বাংলায় আইনের শাসন নয়—শাসকের আইন চলছে। এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
🟢 তৃণমূলের পাল্টা ব্যাখ্যা
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
গলসি কেন্দ্রের প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি বলেন,
👉 “অনেক মানুষ অনুব্রত মণ্ডলকে দেখতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। ওই মহিলা সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন, কেউ তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি মিছিলে অংশ নেননি।”
তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অযথা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন।
🔥 প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—
👉 নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীরা কতটা নিরপেক্ষ?
👉 রাজনৈতিক দলগুলির প্রভাব কি প্রশাসনের উপর পড়ছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের বিতর্ক সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
🚨 বাড়ছে সিয়াসি চাপানউতোর
একদিকে বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে কাঁকসার এই ঘটনা এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
👉 সব মিলিয়ে, একটি ছবি ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কাঁকসার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের ইস্যুতে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।














