বনজেমিহারিতে বিস্ফোরণের আতঙ্ক! ফাটল ধরছে ঘরে, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী

সালানপুর: ইসিএলের বনজেমিহারি ওপেন কাস্ট প্রজেক্টে (ওসিপি) লাগাতার ভারী ব্লাস্টিংয়ের জেরে আশেপাশের এলাকায় মাটি ধস ও ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার বনজেমিহারি নিউ কলোনির উত্তেজিত গ্রামবাসীরা খনিতে ঢুকে কোয়লা উৎপাদন ও পরিবহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন।

🚨 ব্লাস্টিংয়ে কাঁপছে গোটা এলাকা

গ্রামবাসীদের অভিযোগ—
👉 খনিতে হওয়া ভারী বিস্ফোরণের ফলে গোটা এলাকা কেঁপে উঠছে
👉 এই কম্পনের কারণে বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরছে

স্থানীয় বাসিন্দা সাধু শরণ মাহাতো বলেন—
👉 “ব্লাস্টিং হলেই মনে হয় ভূমিকম্প হচ্ছে। ভয় পেয়ে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। অনেক বাড়িতে ইতিমধ্যেই ফাটল ধরেছে। আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

⚠️ প্রাণ ও সম্পত্তির ঝুঁকি

আরেক বাসিন্দা সচিন ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
👉 “এখন খনির পাশে ধস হয়েছে, কিন্তু যদি কারও বাড়ি ভেঙে পড়ে তাহলে দায় নেবে কে?”
👉 “ডেঞ্জার জোনে থাকা মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কাজ চলতে দেওয়া হবে না।”

🛑 দুই ঘণ্টা বন্ধ কাজ

গ্রামবাসীদের তীব্র বিক্ষোভে—
👉 প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনির সমস্ত কাজ বন্ধ থাকে
👉 উৎপাদন ও পরিবহণ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়

🕵️‍♂️ ঘটনাস্থলে কর্তৃপক্ষ

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনজেমিহারি কোলিয়ারির এজেন্ট রাজীব কুমার সিনহা। তিনি জানান—
👉 যেখানে ধস হয়েছে, সেই জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে
👉 প্রথমে ওই অংশে মাটি ভরাট (ফিলিং) করা হবে
👉 এরপর খনির কাটিং জোন নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করে নিরাপদভাবে কাজ এগোনোর পরিকল্পনা করা হবে

📊 কম্পন মাপতে বসবে যন্ত্র

গ্রামবাসীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন—
👉 ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ মাইনস সেফটি (ডিজিএমএস) নিয়ম মেনেই ২০০-২৫০ মিটার দূরত্বে ব্লাস্টিং করা হয়
👉 তবুও অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভাইব্রোমিটার বসিয়ে কম্পনের মাত্রা পরীক্ষা করা হবে

❗ আশ্বাসে সাময়িক শান্তি

ইসিএল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর—
👉 গ্রামবাসীরা আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন
👉 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে

🚨 আতঙ্ক এখনও কাটেনি

যদিও পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে, তবুও—
👉 বাসিন্দাদের মনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
👉 ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না

👉 খনি এলাকার এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে—উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত?

Leave a comment