দোকান ভাঙল, রাস্তা বাড়ল—তবুও হাটন রোডে যানজট! আসানসোলের প্রশ্ন, সমাধান কোথায়?

আসানসোল: শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হাটন রোড। যানজট কমাতে রাস্তার ধারের দোকানপাট ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় মানুষেরও আশা ছিল, এবার হয়তো হাটন রোডে যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির ছবি যেন সেই আশায় জল ঢেলে দিচ্ছে।

হাটন রোড মোড়ে রাস্তার ধারের বেশ কিছু দোকান ভেঙে দেওয়ার পর রাস্তা কিছুটা ফাঁকা হলেও যানজটের মূল সমস্যা এখনও কাটেনি। রাস্তার উপর টোটো ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বিভিন্ন সময় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে পথচারী থেকে শুরু করে গাড়িচালক—সকলকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

দোকান ভাঙা হলো, কিন্তু যানজট গেল কোথায়?

দোকান সরিয়ে রাস্তার পরিসর বাড়ানোর পর অনেকেই মনে করেছিলেন, হাটন রোডের দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যা এবার সমাধানের পথে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাস্তা ফাঁকা করার পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টোটো ও অটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশে যাত্রী ওঠানামার কারণে পরিস্থিতি বারবার জটিল হয়ে পড়ছে। ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সরকার বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি হাটন রোডের চিত্র?

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও হাটন রোডে যানজট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনেকেই আশা করেছিলেন, নতুন প্রশাসনের উদ্যোগে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তাঁদের প্রশ্ন—শাসক বদলেছে, তাহলে হাটন রোডের যানজটের চিত্র কেন বদলাল না?

যদিও যানজটের মতো সমস্যা সমাধানে শুধু রাস্তার ধারের দোকান সরানো নয়, যানবাহনের নির্দিষ্ট চলাচল ব্যবস্থা, পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং টোটো-অটোর দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্কুল পড়ুয়া থেকে রেলযাত্রী—ভোগান্তি সবার

হাটন রোডের যানজটের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। স্কুলের সময় পড়ুয়াদের যাতায়াত যেমন কঠিন হয়ে পড়ছে, তেমনই রেলস্টেশনের দিকে যাওয়া যাত্রীদেরও অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হচ্ছে।

জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়া মানুষ কিংবা কর্মস্থলে যাওয়া নিত্যযাত্রীদের ক্ষেত্রেও যানজট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

টোটো-অটো নিয়ন্ত্রণে কেন কঠোর পদক্ষেপ নয়?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে টোটো ও অটোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, রাস্তা প্রশস্ত করার পরেও যদি টোটো ও অটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ না হয়, তাহলে যানজট কমবে কীভাবে?

প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের আরও কঠোর নজরদারি এবং নির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

হাটন রোডের বাসিন্দাদের তাই এখন একটাই প্রশ্ন—রাস্তার চেহারা বদলাল, দোকান সরল, কিন্তু যানজটের যন্ত্রণা কবে শেষ হবে? কবে সত্যিই যানজটমুক্ত হবে আসানসোল?

Leave a comment