আসানসোল, ১৩ আগস্ট: নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আসানসোলের চাঁদায় পার্বতী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ নেশামুক্তির শপথ কর্মসূচি। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পার্বতী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বি.এড. ও ডি.এল.এড. কলেজে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
দেশজুড়ে চলা ‘১০ কোটি নেশামুক্তির শপথ মহাঅভিযান’, নেশামুক্ত ভারত অভিযান এবং মিশন স্পন্দনের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, তামাক, মদ এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, বিজেপির যুবনেতা অপূর্ব হাজরা, পার্বতী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা শচীন্দ্রনাথ রায় এবং প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিতা রায়।
ব্রহ্মাকুমারীদের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মাকুমারী সঙ্গীতা বোন, ব্রহ্মাকুমারী সন্ধ্যা বোন, ব্রহ্মাকুমারী দোলন বোন এবং ব্রহ্মকুমার পার্থ ভাই। তাঁরা পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি নেশার ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং নেশামুক্ত জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে থাকার বার্তা
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নেশার কবলে পড়লে শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তার প্রভাব পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের উপরও পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজ—তিনটি ক্ষেত্রকেই একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে।
তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা, ইতিবাচক মূল্যবোধ, আত্মসংযম এবং আধ্যাত্মিক সচেতনতা তরুণদের সুস্থ ও দায়িত্বশীল জীবন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সম্মিলিত উদ্যোগের উপর জোর
পার্বতী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা শচীন্দ্রনাথ রায় ব্রহ্মাকুমারীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নেশার হাত থেকে রক্ষা করতে শুধুমাত্র একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লড়াইকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত পড়ুয়া ও অংশগ্রহণকারীরা নেশামুক্তির শপথ নেন। মাদক, তামাক, মদসহ সমস্ত ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও নেশামুক্ত ভারত গড়ার কাজে নিজেদের ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদার পার্বতী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু সচেতনতার বার্তাই দেওয়া হয়নি, বরং তরুণ প্রজন্মকে নেশামুক্ত জীবন বেছে নেওয়ার জন্য একটি ইতিবাচক সামাজিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

