আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি ও নানা সুবিধার ঘোষণা হলেও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম)-এর কর্মীদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় জেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই অবহেলার প্রতিবাদে এনএইচএম কর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করে আন্দোলন জোরদার করেছেন।
বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) দফতরের সামনে বিপুল সংখ্যক এনএইচএম কর্মী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কর্মবিরতির পাশাপাশি তারা অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন এবং নিজেদের একাধিক দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কাজ করে চলেছেন। করোনা মহামারির সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো এবং স্থায়ীকরণ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীরা ‘সমান কাজের জন্য সমান মজুরি’, স্থায়ীকরণ এবং পূর্ণাঙ্গ কর্মীর মর্যাদা দেওয়ার দাবি পুনরায় তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রায় ১০৬৫ জন এনএইচএম কর্মী কাজ করছেন, যারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি, অথচ বাজেটে তাদের জন্য কোনো সুবিধা ঘোষণা করা হয়নি।
একজন আন্দোলনরত স্বাস্থ্যকর্মী জানান, “আমাদের পরিশ্রমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চলছে, অথচ বারবার আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা কর্মবিরতির পথে নেমেছি।” তিনি আরও বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
কর্মীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে এবং প্রয়োজনে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
এই কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে—এনএইচএম কর্মীদের দাবি মানা হবে, নাকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে।

