তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তালা! ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধে চাঞ্চল্য

কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত হওয়ার ঘটনায়। পুলিশের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি ব্যাংক এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে সমস্ত ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, এই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

জানা গেছে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা রয়েছে, আর ত্রিপুরা ও গোয়া ইউনিটের অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ১৮০ কোটি টাকা জমা আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়কের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দলের ভেতরে ক্ষমতার লড়াই সামনে?

অভিযোগ উঠেছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক একটি গোষ্ঠী এই অ্যাকাউন্টগুলির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—যদি এই অ্যাকাউন্ট নিয়ে আপত্তি থেকেই থাকে, তাহলে ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করে নির্বাচন লড়া হল কেন?

প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষের চিঠি ঘিরে জল্পনা

ঘটনায় নতুন মোড় আসে যখন জানা যায়, দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস নিজেই ব্যাংককে চিঠি দিয়ে লেনদেন বন্ধের অনুরোধ করেছিলেন। সম্প্রতি সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে তাঁর পরিবর্তে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হলেও ব্যাংকের নথিতে এখনও অরূপ বিশ্বাসের নামই রয়েছে।

সূত্রের মতে, আইনি জটিলতা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

সাইবার থানায় অভিযোগ, শুরু তদন্ত

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন যে, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ জমা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

৪৪০ কোটি টাকার ওপর ‘স্টপ’, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

তৃণমূল কংগ্রেসের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দলের মোট তহবিল প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ হওয়ায় দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে।

কুণাল ঘোষের বড় প্রশ্ন

কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলে বলেন, যদি এই টাকাকে এখন অবৈধ বলা হয়, তাহলে সেই টাকা দিয়ে যারা নির্বাচন লড়েছেন, তাঁদের জয়ও কি অবৈধ নয়?

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—এটি কি শুধুই আইনি তদন্ত, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ?

পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

Leave a comment