কলকাতা:
রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল তদন্তকারী দল। শুভেন্দু অধিকারী-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন অভিযুক্তকে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং সোমবার আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম ময়ঙ্ক শর্মা, বিক্কি মौर্য এবং রাজ সিংহ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি পেশাদার শ্যুটার হিসেবে কাজ করত। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিহারের যোগসূত্রও উঠে এসেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
🔍 কীভাবে ঘটেছিল সেই খুন?
গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চন্দ্রনাথ রথ নিজের গাড়িতে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি চারচাকা গাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়। ফলে তাঁর গাড়ি থামতে বাধ্য হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই দুই বাইকে চেপে আসা দুষ্কৃতীরা দুই দিক থেকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের। তাঁর গাড়িচালক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, যেখানে এখনও তাঁর চিকিৎসা চলছে।
🕵️♂️ তদন্তে বড় অগ্রগতি
এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়, যেখানে এসটিএফ এবং সিআইডির আধিকারিকরাও যুক্ত রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল এবং সেটির নম্বর প্লেট ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো।
বালি টোল প্লাজায় অনলাইন পেমেন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের হদিস পায়। এরপরই বিশেষ অভিযান চালিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
⚠️ পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের
পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড কোনও হঠাৎ ঘটনা নয়। অন্তত দেড় মাস আগে থেকেই এই খুনের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। কারা এর পেছনে রয়েছে, কোনও বড় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কিনা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার দিনই খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত দুটি বাইকও উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ওই বাইকগুলির নম্বর প্লেটও ছিল ভুয়ো।
🚨 বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে—খুব শিগগিরই এই মামলায় আরও বড়সড় তথ্য সামনে আসতে পারে।
👉 এখন দেখার বিষয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল মস্তিষ্ক কে? আর এই গ্রেফতারির পর তদন্ত কোন নতুন মোড় নেয়।















