এক গাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতি! বৈঠকের আগে নজিরবিহীন দৃশ্য সল্টলেকে

single balaji

আসানসোল/কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের সূচনার পরই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতায় গতি বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে তাঁর কনভয় সোজা পৌঁছয় সল্টলেকে। সেখানে বিএইচ ব্লকে অবস্থিত বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য-এর পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্রের খবর, বাড়িতে কিছুক্ষণ বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারী ও শমিক ভট্টাচার্য একই গাড়িতে করে বিজেপির রাজ্য দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ এটি দলের অভ্যন্তরে সুদৃঢ় সমন্বয় ও একতা প্রদর্শনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শমিক ভট্টাচার্যের বাড়ির সামনে উপচে পড়ে জনতার ভিড়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে পদ্মফুলের মালা পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অন্যদিকে রাজ্য দপ্তরেও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল—শঙ্খধ্বনি ও উত্তরীয় পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়।

জানা গিয়েছে, বিজেপির রাজ্য দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগঠনের রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকার কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক গতি বাড়াবে, সে বিষয়েও এখানে কৌশল নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন দুপুর ১২টায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে—কারণ এখানেই নেওয়া হতে পারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত।

শুধু মন্ত্রিসভা বৈঠকই নয়, প্রথম কর্মদিবসেই মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচি। দুপুরে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে, আর সন্ধ্যায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্যের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠিত হয়। শপথের পরদিনই তিনি প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করে দেন।

ধর্মতলায় গণপূর্ত দপ্তরের ক্যাম্প অফিসে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়াওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

নতুন সরকারের প্রথম দিনেই এমন সক্রিয়তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিসরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এখন সকলের নজর নবান্নের মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে।

ezgif 22b6a523914e707e
ghanty

Leave a comment