আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর এবার দলের ভেতর থেকেই উঠে আসছে বিস্ফোরক মন্তব্য। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ভি. শিবদাসন প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন—১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলেই দলের কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে অহংকার জন্মেছিল, আর সেই অহংকারই শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি সরাসরি কারও নাম না করলেও প্রাক্তন মন্ত্রীসহ একাধিক নেতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সাধারণ মানুষ নেতাদের আচরণে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর কথায়,
“জনতা সব দেখেছে, আর সেই কারণেই এইবার তৃণমূলকে ভোট না দিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করেছে।”
শিবদাসন আরও বলেন, নেতাদের মনে রাখা উচিত ছিল—অহংকার কখনও স্থায়ী হয় না। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেকেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলেই জনতার আস্থা হারাতে হয়েছে দলকে।
বস্তিন বাজার দুর্গা মন্দির ইস্যু নিয়ে তিনি আরেকটি বড় দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ ধারণা ছিল না, বরং কিছু নেতা তাঁর নাম ব্যবহার করে ভুল বার্তা ছড়িয়েছেন এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
শুধু তাই নয়, দল বদল নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি। শিবদাসনের দাবি,
“দলের বহু নেতা এখন বিজেপিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিজেপিকেও এমন সুযোগসন্ধানী নেতাদের থেকে সাবধান থাকা উচিত।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এখন আত্মসমালোচনার পর্ব শুরু হয়েছে। দলের ভিত মজবুত করতে এবং জনসমর্থন ফিরে পেতে নতুন কৌশল নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে।
তবে সবশেষে আশাবাদী সুরেই বার্তা দেন ভি. শিবদাসন। তিনি বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে চললে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং মানুষের আস্থা ফিরে পাবে।”
এখন দেখার বিষয়, এই আত্মসমালোচনার পর দল কীভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করে এবং আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।















