জামুড়িয়া, পশ্চিম বর্ধমান:
পুনর্বাসন, নিরাপত্তা এবং জলসংকটের দাবিতে বৃহস্পতিবার বড়সড় আন্দোলনে নামলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া এলাকার খেপাডাঙা আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) কেন্দা এরিয়ার অন্তর্গত নিউ কেন্দা ওসিপি কুয়ারি ৩-এ চলা ব্লাস্টিংয়ের কারণে গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা খনির ভেতরে ঢুকে সমস্ত মেশিন বন্ধ করে দেন এবং কয়লা পরিবহণের ট্রান্সপোর্ট গাড়িগুলিও থামিয়ে দেন। এর ফলে সকাল থেকেই খনির সমস্ত কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ইসিএলের কেন্দা এরিয়ার নিরাপত্তা দল এবং সিআইএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
“ব্লাস্টিংয়ের সময় মনে হয় ভূমিকম্প হয়েছে”
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ মুর্মু জানান, গ্রামের একেবারে পাশেই ওপেন কাস্ট খনিতে নিয়মিত ব্লাস্টিং হওয়ার ফলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
তার অভিযোগ, বিস্ফোরণের তীব্র কম্পনে গ্রামের বহু বাড়ির ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ব্লাস্টিংয়ের সময় এমন অনুভূতি হয় যেন এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছে। এতে বিশেষ করে মহিলা ও ছোট শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, কয়লা উৎপাদন অবশ্যই জরুরি, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গ্রামবাসীদের পুনর্বাসন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তীব্র জলসংকটের আশঙ্কা
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগেই গ্রামের পুকুর ও কুয়ো প্রায় শুকিয়ে গেছে। ফলে আগামী দিনে এলাকায় তীব্র জলসংকট দেখা দিতে পারে।
কিন্তু ইসিএল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জল সমস্যার সমাধানে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।
“প্রথমে পুনর্বাসন, তারপর খনন”
গ্রামের বাসিন্দা রীতা বাউরি, অঞ্জলি মাড়ি এবং কল্পনা মুর্মু বলেন, প্রতিদিনের ব্লাস্টিংয়ের কারণে আদিবাসী পাড়ায় বসবাস করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। পানীয় জলের চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং গ্রামের একমাত্র পুকুরটিও শুকিয়ে যাওয়ার মুখে।
তাঁদের দাবি, প্রথমে গ্রামবাসীদের নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর ইসিএল চাইলে যত খুশি কয়লা উত্তোলন করতে পারে।
সকাল থেকে বন্ধ খনির কাজ
গ্রামবাসীদের এই আন্দোলনের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিউ কেন্দা ওসিপি কুয়ারি ৩-এ সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে। বর্তমানে প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনায় আবারও সামনে এল শিল্পোন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।














