রাজ্যের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব নাটকীয় মোড়। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির ঠিক এক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন। দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন—আর তার পিছনে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক!
বুধবার সকালে নাটকীয়ভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানান যে ঋতব্রতই হোন বিরোধী দলনেতা। সেই চিঠিতে ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহার পাশাপাশি আরও ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল।
⚡ স্পিকারের সিলমোহর, বদলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ
বিধানসভার কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠকের পর স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন বিদ্রোহী বিধায়করা। সমস্ত যুক্তি খতিয়ে দেখে স্পিকার ঋতব্রতকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। শুধু তাই নয়, ডেপুটি লিডার, হুইপ সহ অন্যান্য পদেও অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষও তুলে দেওয়া হয় ঋতব্রতের হাতে। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই আমরাই আসল বিধানসভা দল।”

🟢 “মমতাই নেতা, তবে অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্ক নেই”
ঋতব্রতের সবচেয়ে বড় বার্তা—
👉 “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের নেতা, তাঁকে আমরা উপদেষ্টা হিসেবে চাই।”
👉 “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলের ভিতরে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুই মতভেদ নয়—এটি ক্ষমতার লড়াই।
🟡 ‘গঠনমূলক বিরোধী’ হতে চান ঋতব্রত
ঋতব্রত বলেন, তারা বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করবেন, তবে ভালো কাজের প্রশংসাও করবেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদও জানান।
তার কথায়,
“আমি বস নই, আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব। কোনও ‘বসতন্ত্র’ নয়, আমরা ‘আমরা’-তে বিশ্বাসী।”
🔥 বিদ্রোহের সূচনা কোথা থেকে?
এই বিস্ফোরণের মূল ছিল একটি বড় অভিযোগ—
👉 বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে যে চিঠি জমা পড়ে, তাতে নাকি একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল ছিল!
এই অভিযোগ প্রথম সামনে আনেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় FIR দায়ের হয়, CID তদন্ত শুরু করে এবং ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
🚨 দল থেকে বহিষ্কার, তারপরই বিস্ফোরণ
সোমবার ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পর থেকেই একে একে অনেক বিধায়ক বিদ্রোহের পথে হাঁটেন। তৈরি হয় ‘নতুন তৃণমূল’-এর জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন যদি আরও গভীর হয়, তাহলে দলীয় প্রতীক নিয়েও বড় লড়াই হতে পারে।
🟠 অভিষেককে কেন্দ্র করেই অসন্তোষ?
সূত্রের খবর, কালিঘাটে এক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান জানাতে বলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অনেক নেতা অসন্তুষ্ট হন।
এরপর ১৯ মে-র বৈঠকে ঋতব্রত সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—
👉 কেন ফলতার জাহাঙ্গীর খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রশ্ন আসলে অভিষেকের দিকেই ইঙ্গিত ছিল।
⚖️ এখন কী হতে পারে?
👉 বিধানসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে শক্তি বাড়াতে পারে ঋতব্রত শিবির
👉 নির্বাচন কমিশনে প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন হতে পারে
👉 তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে
📢 উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
তৃণমূল কি ভেঙে দু’ভাগ হবে? নাকি শেষ মুহূর্তে সমঝোতা?
ঋতব্রতের উত্থান এবং অভিষেককে ঘিরে অসন্তোষ—এই দুই মিলে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন একেবারেই অনিশ্চিত।















