কালীঘাটে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক ঘিরে সামনে এল দলের অন্দরের চেপে থাকা ক্ষোভ। ফলতা উপনির্বাচনে প্রার্থী জাহাঙ্গির খান-এর আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের ভিতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে।
মঙ্গলবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক বিধায়ক সরাসরি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
⚠️ বৈঠকে কেন ফেটে পড়ল ক্ষোভ?
সূত্রের খবর, বৈঠকে বেলঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সরব হন।
👉 তিনজন একসঙ্গে বৈঠকে পৌঁছন
👉 জাহাঙ্গির ইস্যুতে তীব্র প্রশ্ন তোলেন
👉 ভোটের ঠিক আগে সরে দাঁড়ানোর পরও কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়?
এমনকি বৈঠকে জাহাঙ্গির খানকে কটাক্ষ করে “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা” বলেও উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে।
🗣️ অভিষেককে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর একটি পুরনো মন্তব্যও উঠে আসে, যেখানে তিনি বলেছিলেন জাহাঙ্গির তাঁর কাছে এলাকায় শ্মশান তৈরির দাবি করেছিলেন।
👉 সেই মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে
👉 দলের ভিতরে স্বচ্ছতা ও যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ
👉 নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ
কুণাল ঘোষ বৈঠকে বলেন—
👉 “শুধু ঘরোয়া বৈঠক নয়, রাস্তায় নেমেও মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।”
📉 অনুপস্থিত ১৫ বিধায়ক, জল্পনা তুঙ্গে
সূত্র অনুযায়ী—
👉 মোট ১৫ জন বিধায়ক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না
👉 ৭ জন অসুস্থতার কারণ দেখান
👉 মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক দিল্লিতে থাকার কথা জানান
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তিনি হয়তো কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন—যদিও এর কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।
🏛️ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ইস্যুও উঠল
বৈঠকে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-কে এখনও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা না দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।
👉 বিধানসভা সচিবালয় সমর্থনপত্র চেয়েছিল
👉 ৬৫ জন বিধায়ক সেই চিঠিতে সই করেন
👉 চিঠির তারিখ ৬ মে বলে জানা গেছে
🔍 কী এই জাহাঙ্গির বিতর্ক?
ফলতা উপনির্বাচনের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান হঠাৎ ঘোষণা করেন যে তিনি ভোটে লড়বেন না।
👉 সিদ্ধান্তের পেছনে কার নির্দেশ ছিল, তা স্পষ্ট নয়
👉 পরে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়—এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
এই ঘটনাই এখন দলের ভিতরে বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
⚠️ উপসংহার
কালীঘাটের এই বৈঠক তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে।
👉 নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে
👉 দলের ঐক্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
👉 আসন্ন নির্বাচনের আগে এই অশান্তি বড় প্রভাব ফেলতে পারে
এখন দেখার, দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই সংকট সামাল দেয় এবং অসন্তুষ্ট বিধায়কদের মন জয় করতে পারে।















