তৃণমূলের ‘ফ্রিজ’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, এবার ৪টি নতুন অ্যাকাউন্ট নিয়ে হাইকোর্টে কালীঘাট শিবির

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনি টানাপোড়েনে নতুন মোড়। দলের দুই শিবিরের দায়ের করা আবেদন আপাতত ফিরিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতেও রাজি হয়নি দেশের শীর্ষ আদালত।

এর মধ্যেই আরও চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির। ওই চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে দলের প্রয়োজনীয় কাজে টাকা ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বুধবার এই নতুন মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে দুই শিবিরের আবেদন, কিন্তু মিলল না সরাসরি সুরাহা

মঙ্গলবার তৃণমূলের দুই শিবিরের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। একদিকে ছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত-সমর্থক শিবির।

দুই পক্ষই ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অধিকার এবং হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি. বি. ভারালে-র বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে একটি ‘ভারসাম্য’ রাখা হয়েছে।

💰 অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশেষ আধিকারিকের

হাইকোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা অ্যাকাউন্টগুলি সরাসরি পরিচালনা করার অধিকার কালীঘাট শিবিরকে দেওয়া হয়নি। আদালতের তরফে একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।

দলের কর্মসূচি, দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ এবং আইনি খরচের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে টাকা ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বিশেষ আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে হবে। কোন খাতে কত টাকা দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর হাতে রয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কালীঘাট শিবিরের।

👥 ঋতব্রত-সমর্থক শিবিরকেও বিশেষ আধিকারিকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ

অন্যদিকে, ঋতব্রত-সমর্থক শিবিরের অভিযোগ ছিল, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তাদের ‘ফ্রিজ’ অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তাদের প্রশ্ন ছিল, যদি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কালীঘাট শিবির দলের অর্থ ব্যবহার করতে পারে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও কেন একই সুযোগ থাকবে না?

এই যুক্তি তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল ঋতব্রত-সমর্থক পক্ষ। তবে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরিবর্তে তাদের হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের কাছে নিজেদের দাবি জানাতে বলা হয়েছে।

🏦 প্রথমে তিনটি অ্যাকাউন্ট, পরে ইডির পদক্ষেপ

তৃণমূলের ‘ফ্রিজ’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে চলছিল। প্রথম পর্যায়ে পুলিশ দলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করেছিল। পরবর্তী সময়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-ও তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে।

পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কালীঘাট শিবির হাইকোর্টে মামলা করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়।

তবে সরাসরি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষমতা দলকে দেওয়া হয়নি।

⚖️ ইডির ‘ফ্রিজ’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে কালীঘাট শিবির

পরবর্তীতে ইডির তরফে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট শিবির। দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ চালানোর জন্য ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়।

পাশাপাশি ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট সেই পর্যায়ে ইডির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি।

এর পরেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।

🚨 এবার আরও চারটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে নতুন মামলা

এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই আরও চারটি তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে হাইকোর্টে মামলা করেছে কালীঘাট শিবির।

তাদের দাবি, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে ওই চারটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কোনও বেআইনি লেনদেন হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই বলেই দাবি কালীঘাট শিবিরের।

তাই অ্যাকাউন্টগুলির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অথবা অন্তত দলের প্রয়োজনীয় কাজে সেগুলির অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

👀 বুধবারের শুনানির দিকে নজর

নতুন এই মামলাটি বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য-র আদালতে শুনানির জন্য উঠতে পারে। ফলে চারটি নতুন ‘ফ্রিজ’ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।

সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করায় তৃণমূলের দুই শিবিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনি লড়াই এখন আরও একবার হাইকোর্টকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ আধিকারিকের ভূমিকা এবং নতুন চারটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে আদালতের পরবর্তী নির্দেশই এই বিতর্কে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে।

Leave a comment