বরাকর/কুলটি: পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার অন্তর্গত পুনুড়ি গ্রামের জঙ্গল থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবক সোনু বিশ্বকর্মার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত সোনু বরাকর স্টেশন রোডের আলুগদ্দি এলাকার বাসিন্দা এবং লটারি বিক্রেতা গণেশ বিশ্বকর্মার পুত্র। দেহটি প্রথমে শনাক্ত করেন তাঁর বোন।
পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বরাকরের বাসিন্দা রনি ঘোষ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কুলটি থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং শীঘ্রই আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।
দেহ বাড়ি পৌঁছাতেই ফেটে পড়ে ক্ষোভ
বুধবার সন্ধ্যায় সোনুর দেহ বরাকরে পৌঁছাতেই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শতাধিক মানুষ বরাকর স্টেশন রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন।
প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট (ওয়েস্ট)-এর এসিপি জাভেদ হুসেন, কুলটি থানার আইসি অশোক সিংহ মহাপাত্র এবং বরাকর ফাঁড়ির ওসি অঞ্জন রজক সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিক। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল এবং প্রতিবাদে বরাকর বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল।

ঋণের চাপে নিজের অপহরণের ছক, তারপর মৃত্যু
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোনু বিশ্বকর্মা দীর্ঘদিন ধরে ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন এবং আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি নাকি এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে নিজের অপহরণের নাটক সাজান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর বাবার কাছে ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু পুলিশের দাবি, মুক্তিপণের টাকা হাতে আসার আগেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সোনু ও তাঁর সহযোগীদের মধ্যে তীব্র বিবাদ বাঁধে। সেই বিবাদই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় খুনে। অভিযোগ, বন্ধুরাই তাঁকে খুন করে জঙ্গলে দেহ ফেলে দেয়।
পরিবারের দাবি—ফাঁসি হোক অভিযুক্তদের
এই নৃশংস ঘটনার পর সোনুর পরিবার ভেঙে পড়েছে। তাঁদের একটাই দাবি—দোষীদের ফাঁসির শাস্তি দিতে হবে। পরিবারের বক্তব্য, কঠোর শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ থামবে না।
মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া—‘কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’
রাজ্যের মন্ত্রী ডা. অজয় পোদ্দার ফোনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমি শোকাহত পরিবারের পাশে আছি। এই জঘন্য অপরাধে যারা জড়িত, তাদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। খুব দ্রুত পুরো সত্য সামনে আনতে আমি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।”
এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ
এই ঘটনায় বরাকর ও কুলটি এলাকাজুড়ে একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষোভও চরমে পৌঁছেছে।
এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে—এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সমস্ত রহস্য কি দ্রুত উদঘাটন করা সম্ভব হবে? এবং দোষীরা কি পাবে উপযুক্ত শাস্তি?















