‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে নতুন আইন! বাঁকুড়া থেকে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা, ‘দুটি কাজ এখনও বাকি’

বাঁকুড়া: পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় এসে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা গ্রামীণ এলাকাগুলির উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের কথা জানালেন তিনি, অন্যদিকে ধর্মান্তরণ রুখতে আইন এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানালেন।

প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের সামনে এখনও ‘দুটি কাজ’ বাকি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মান্তরণ বন্ধ করা এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক বিল আনার প্রস্তুতি চলছে।

⚡ ‘দুটি কাজ এখনও বাকি’, বাঁকুড়া থেকেই বড় ঘোষণা

শুভেন্দু অধিকারী জানান, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি সংক্রান্ত খসড়া বিল ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেটি কার্যকর করার আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বাধীন নয় সদস্যের একটি কমিটি খসড়াটি পর্যালোচনা করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, খুব শীঘ্রই ইউসিসি আনার প্রস্তুতি চলছে। এরপর ধর্মান্তরণ এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও আইন আনার দিকে সরকার এগোবে।

🛑 ধর্মান্তরণ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

ধর্মান্তরণের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশ থেকে অর্থ আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাঁর দাবি, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তরণের প্রবণতা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সরকার নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

তবে এই অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

🏠 ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে আইন আনার ইঙ্গিত

ধর্মান্তরণের পাশাপাশি জমি কেনাবেচা নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমির লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য আইন আনার কথা বলেছেন তিনি।

‘ল্যান্ড জিহাদ’ শব্দবন্ধটি বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষ পরিকল্পিতভাবে জমি কিনে কিছু এলাকার জনসংখ্যার চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করছে।

এবার পশ্চিমবঙ্গেও জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে আইন আনার কথা প্রকাশ্যে বলায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

⚖️ অন্যান্য রাজ্যের আইনও আলোচনায়

ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির কথাও সামনে এসেছে। ওই রাজ্যগুলিতে ধর্মান্তরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত আইন আদালতে চ্যালেঞ্জও হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত আইন ঠিক কী ধরনের হবে এবং তার সাংবিধানিক কাঠামো কী থাকবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইনি মহলেও আলোচনা হতে পারে।

অসমেও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র নেতৃত্বাধীন সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বিবাহ সংক্রান্ত কিছু বিধান এনেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

💰 পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ১৬১০ কোটি টাকার বাজেট

রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বিষয়গুলির পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকার পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করেনি। তাঁর দাবি, গত আর্থিক বছরে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের জন্য মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং তার মধ্যে মাত্র ৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

এর বিপরীতে বর্তমান সরকার এই দফতরের জন্য বাজেটে ১৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা কর্মীদের বেতন বাবদ খরচ হবে এবং বাকি ১৬০০ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

🛣️ তিন মাসের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি

মঙ্গলবারের প্রশাসনিক বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আগামী তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, বিডিও, বিধায়ক, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই পিছিয়ে থাকা গ্রাম ও এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিপিআর এবং টেন্ডারের প্রক্রিয়া শেষ করার পর পুজোর পর থেকেই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

প্রতিটি চিহ্নিত এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

🏗️ উন্নয়নের পাশাপাশি আইন নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা

বাঁকুড়া সফরে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে একইসঙ্গে উঠে এসেছে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন এবং ধর্মান্তরণ ও জমি সংক্রান্ত আইন। ফলে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তাঁর ঘোষণাগুলি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

এখন নজর থাকবে প্রস্তাবিত ইউসিসি, ধর্মান্তরণ বিরোধী আইন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলের খসড়া কীভাবে তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে সেগুলি বিধানসভায় কীভাবে পেশ করা হয় তার দিকে।

Leave a comment