নয়াদিল্লি:
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হলো, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দায়িত্বে ১২ বছর পূর্ণ করে নতুন রেকর্ড গড়লেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ২০২৪ সালের ৯ জুন টানা তৃতীয়বার তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত তাঁর শাসনকালের মোট সময় দাঁড়ায় ৪৩৯৮ দিন, যার ফলে তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নেতা হয়ে উঠেছেন।
📊 নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন মোদী
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু-র দখলে। তিনি ১৯৫২ সালের ১৩ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে টানা ৪৩৯৭ দিন এই পদে ছিলেন।
নরেন্দ্র মোদী সেই রেকর্ড একদিন বেশি সময় ধরে অতিক্রম করে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন।
⚡ ইন্দিরা গান্ধীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই নরেন্দ্র মোদী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-র দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের রেকর্ড ভেঙে দেন।
এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মোট শাসনকাল নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছে।

🏛️ এনডিএ-র শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি
এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১০ জুন এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠকে সরকারের গত ১২ বছরের সাফল্য, উন্নয়নমূলক কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি জোটের ঐক্যও প্রদর্শিত হবে।
🗳️ টানা তিনবার জয়ের বিরল কৃতিত্ব
নরেন্দ্র মোদী ভারতের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন, কারণ তিনি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু-র পর দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন।
এর পাশাপাশি তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।
🌟 “মোদী যুগ” নিয়ে জোর চর্চা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদীর এই দীর্ঘ শাসনকাল ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
তাঁর নেতৃত্বে দেশের নীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
👉 সব মিলিয়ে, ১২ বছরের এই যাত্রা শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি ভারতীয় রাজনীতিতে “মোদী যুগ”-এর শক্তিশালী উপস্থিতি এবং জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।


