কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর প্রায় এক মাসের মাথায় প্রথমবার রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে যতটা না রাজনৈতিক বার্তা, তার থেকেও বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে মঞ্চে উপস্থিতির সংখ্যাকে কেন্দ্র করে।
মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত ধর্না মঞ্চ থেকে হাতে সংবিধান তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন মমতা। কিন্তু সেই মঞ্চে তৃণমূলের মাত্র ৮ জন বিধায়ক এবং ৬ জন সাংসদের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ (ববি) হাকিম, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র এবং কুণাল ঘোষ। সাংসদদের তালিকায় ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, ডোলা সেন, সামিরুল ইসলাম এবং নাদিমুল হক।
অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে দলভাঙার জল্পনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে জোরালো হয়েছে। এর মাঝেই এত বড় সংখ্যক জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
ধর্না মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, হেলমেট না থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পাশাপাশি তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল বিধায়কদের উপর দল ছাড়ার চাপ তৈরি করা হচ্ছে এবং অনেককে বাড়ি থেকে বের হতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এখন ‘বুলডোজার রাজনীতি’ চলছে এবং ইডি-সিবিআইয়ের মাধ্যমে ভয় দেখানো হচ্ছে।

ধর্মতলায় রানী রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্নার অনুমতি না পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। যদিও পরে তিনি জানান, পুলিশ শুধু ঊর্ধ্বতন নির্দেশ মেনে কাজ করছে।
দলভাঙা প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট করে দেন, বিধায়ক দলনেতা বা বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলগতভাবে নেওয়া হয়, কোনও ব্যক্তি এককভাবে তা ঠিক করতে পারেন না। সই বিতর্ক নিয়েও তিনি বলেন, তাঁর কাছে ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং প্রয়োজনে ফরেনসিক তদন্ত করা যেতে পারে।
এদিকে বিজেপি নেতা তাপস রায় দাবি করেছেন, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতের সঙ্গে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি মহারাষ্ট্রের মতো হতে পারে। যদিও ঋতব্রত এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানান, তিনি শুধু নিজের এবং সন্দীপন সাহার দায়িত্ব নিতে পারেন।
সোমবারই তৃণমূল ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সই জালিয়াতি হয়েছে, যার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চাপা অস্থিরতা ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে দলকে একত্রে ধরে রাখেন।















