সালানপুর/মাইথন: মাইথন ড্যামের জলাধারে প্রস্তাবিত ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। ধীরে ধীরে এই বিরোধ একটি বড় জনআন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ড্যাম নির্মাণের সময় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলি এবার ‘আর-পার’ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে, যার ফলে ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন)-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সিধাবাড়ি এলাকায় প্রকল্প-সংক্রান্ত ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এরপর মাইথন ড্যামের আশেপাশে থাকা সাতটি গ্রামের শতাধিক মানুষ একজোট হয়ে রাস্তায় নামেন।
এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করতে দামোদর ভ্যালি বাস্তুচ্যুত সংগ্রাম সমিতি-র উদ্যোগে কালীপাথর ফুটবল মাঠে এক বিশাল সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত সকলেই একবাক্যে ঘোষণা করেন—কোনও অবস্থাতেই মাইথন জলাধারে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বসাতে দেওয়া হবে না।
⚠️ “উন্নয়নের নামে ধ্বংস মেনে নেব না”
সমিতির চেয়ারম্যান বাসুদেব মাহতো ডিভিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু নিজেদের ধ্বংসের বিনিময়ে উন্নয়ন মেনে নেব না। ১৯৫২ সাল থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কখনও তা পূরণ হয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র নৌকাচালক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। “এই লড়াই কোনও ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি আমাদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই,” তিনি স্পষ্ট করেন।
🚤 জীবিকার সঙ্কটের আশঙ্কা
কালীপাথর গ্রামের বাসিন্দা মুমতাজ আনসারি জানান, বথানবাড়ি, কালীপাথর, সিধাবাড়ি, ডোমদোহা, বৃন্দাবনী সহ সাতটি গ্রামের শতাধিক পরিবার সম্পূর্ণভাবে মাইথন ড্যামের উপর নির্ভরশীল।
“জলাশয়ে সোলার প্ল্যান্ট বসালে নৌকা চালানোর জায়গা থাকবে না, মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে। এই এলাকা একটি পর্যটন কেন্দ্রও, সেখান থেকেও অনেকের রুজি-রোজগার হয়। সবকিছুই বন্ধ হয়ে যাবে,” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
😡 ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসী
অন্যদিকে কাজল মণ্ডল বলেন, ড্যাম তৈরির সময় তাদের পূর্বপুরুষদের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও বিনিময়ে শুধু প্রতিশ্রুতি ও বঞ্চনা মিলেছে।
“এখন আমাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না,” তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।
🔍 এখন কী করবে প্রশাসন?
গ্রামবাসীদের এই তীব্র বিরোধিতার পর এখন সবার নজর ডিভিসি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের দিকে। আলোচনা ও সমাধানের পথ খোলা হবে, নাকি আন্দোলন আরও তীব্র হবে—তা সময়ই বলবে।
👉 আপাতত মাইথন ড্যামের এই ইস্যু সমগ্র অঞ্চলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
⚠️ সোলার প্রকল্প নাকি জনরোষ—শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে পরিস্থিতি? বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সবাই…


