আসানসোল: কয়লা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা, বালু চুরি এবং দীর্ঘদিন ধরে মজুরি চুক্তি কার্যকর না হওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল আসানসোলের সোদপুর এলাকা। মঙ্গলবার সিএমএসআই-সিটুর উদ্যোগে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর সোদপুর এরিয়া অফিস ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান কয়লা শ্রমিকরা।
এই আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন সিটুর কেন্দ্রীয় নেত্রী তথা সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, কয়লা শ্রমিকদের জন্য প্রতি পাঁচ বছরে একটি ওয়েজ বোর্ড গঠন করে মজুরি চুক্তি কার্যকর করার নিয়ম থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গোটা কয়লাঞ্চল জুড়ে সিটুর পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি সনদ জমা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইসিএলের ১৪টি এলাকার মধ্যে ৬টিতে একই দাবিতে বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছে এবং ৫২টি কোলিয়ারিতে ‘পিট মিটিং’ করে শ্রমিকদের সচেতন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সভায় সিএমএসআই-সিটুর সাধারণ সম্পাদক মনোজ দত্ত ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, খনির নিরাপত্তা নিয়ে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ খনিতে বালু ভরাট বা ‘স্যান্ড স্টোয়িং’ নিয়ম মেনে না হওয়ার ফলে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বালু চুরির কারণে, যা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে বলে অভিযোগ।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে জেবিসিসিআই কমিটি গঠন করে এনসিডব্লিউএ-১২ মজুরি চুক্তি কার্যকর না হলে কয়লা শ্রমিকরা ১০০ শতাংশ ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবেন।

শুধু তাই নয়, আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখাও ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে সাঁকতোড়িয়ায় ইসিএল সদর দপ্তরে বিশাল সমাবেশ হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে রানিগঞ্জ থেকে রাজরহাটে কোল ইন্ডিয়া সদর দপ্তর পর্যন্ত পদযাত্রা করা হবে এবং সেখানে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এই পরিস্থিতিতে কয়লা শিল্পে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রমিকদের একাংশের দাবি, যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপরও তার প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন করে তীব্র আকার নিচ্ছে, যা আগামী দিনে বড় আকারের আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।


