আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশি অভিযান ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে আসানসোল উত্তর থানার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন অভিযুক্তকে আদালতের নির্দেশে জেলে পাঠানো হয়েছে, আর বাকি ৯ জনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে তার মূল্য দিতেই হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সকলের উচিত সরকারের নির্ধারিত আইন মেনে চলা।
তবে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধা যেন না হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
সোমবার পুলিশ এই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে আসানসোল আদালতে পেশ করে। এর ফলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮-এ। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া। পুলিশ ফাঁড়ির বাইরে RAF মোতায়েন রয়েছে এবং গোটা এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। বাজার খোলা থাকলেও সর্বত্র সতর্কতা জারি রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করা হয়েছে। সেখানে মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারা ও চার্চের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং কোনো গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে।















