রাজ্য সরকারের অভিযোগ খারিজ, ‘তথ্যহীন’ নোটিস বলেই দাবি নগরনিগমের

আসানসোল: শো-কজ নোটিসকে ঘিরে আসানসোল পুরনিগম ও রাজ্য সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের পাঠানো নোটিসের জবাবে পুরনিগমের মেয়র বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়ে সমস্ত অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছেন।

⚖️ “অভিযোগ ভিত্তিহীন”—মেয়রের স্পষ্ট বার্তা

মেয়র তাঁর জবাবে জানান, নোটিসে উত্থাপিত অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন, অস্পষ্ট এবং বাস্তবের সঙ্গে অসংগত
তিনি অভিযোগ করেন, নোটিসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ দেওয়া হয়নি, ফলে সঠিকভাবে জবাব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

👉 পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতিও মানা হয়নি, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

🏛️ বৈঠক নিয়ে পুরনিগমের ব্যাখ্যা

পুরনিগম জানিয়েছে, বোর্ড অফ কাউন্সিলরস-এর বৈঠকগুলি পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপাল কর্পোরেশন আইনের নিয়ম মেনেই নিয়মিত হয়েছে।
মে ২০২৬-এ স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে বৈঠক না হলেও, জুন ২০২৬-এ বৈঠক ডাকার জন্য চেয়ারম্যান কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

💼 কর ছাড় নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সম্পত্তি কর ছাড় দেওয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে পুরনিগম জানিয়েছে—
✔️ সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন মেনেই বোর্ড অফ কাউন্সিলরস নিয়েছে
✔️ এই প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করে
✔️ কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজও করে

👉 এই কারণেই নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কর ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

🚰 পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ খারিজ

পানীয় জল, রাস্তার আলো, নিকাশি ও সাফাই পরিষেবা নিয়ে নোটিসে ওঠা অভিযোগও পুরনিগম সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
নিগমের দাবি—
✔️ প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয়
✔️ অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী
✔️ সমস্ত আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে

👥 জনকল্যাণমূলক কাজের উল্লেখ

পুরনিগম জানিয়েছে, বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবির ও সরকারি প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের ওয়ার্ডে নিয়মিত কাজ করছেন—শুধুমাত্র সদর দফতরে উপস্থিতির ভিত্তিতে কাজের মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।

⚠️ বাড়ছে প্রশাসনিক টানাপোড়েন

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও থাকতে পারে।

📢 নোটিস প্রত্যাহারের দাবি

শেষে মেয়র রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন—
👉 ৩০ জুন ২০২৬-এ জারি হওয়া শো-কজ নোটিস প্রত্যাহার করা হোক, কারণ এতে উত্থাপিত অভিযোগ আইনগত ও বাস্তব—উভয় দিক থেকেই টেকসই নয়।

✨ বড় প্রশ্ন

👉 এটি কি শুধুই প্রশাসনিক মতভেদ, নাকি এর আড়ালে বড় রাজনৈতিক লড়াই লুকিয়ে আছে?

আসানসোলের এই ঘটনায় এখন নজর সবার—আগামী দিনে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a comment