সালানপুর: রাজ্য সরকারের ঘোষণায় ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থ বিতরণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে প্রথমবার প্রায় ১.২৫ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ₹৩০০০ করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষোভের খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, আগের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পরেও বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে এখনও অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পৌঁছানোয় অসন্তোষ চরমে উঠেছে।
🚨 বিডিও অফিসে বিক্ষোভ, উত্তাল সালানপুর
৩ জুলাই সকালে এই ইস্যুতে সালানপুর বিডিও অফিসের সামনে শতাধিক মহিলা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি—সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করার পরেও কেন এখনও টাকা মেলেনি, তার স্পষ্ট জবাব চাই।

📢 “আবেদন করেছি, তবুও টাকা নেই!”
প্রতিবাদী মহিলাদের অভিযোগ, তারা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে অফলাইন জমা দিয়েছেন, আবার অনেকেই অনলাইনেও আবেদন করেছেন। তাঁদের আশা ছিল ১ জুলাইয়ের মধ্যেই টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। কিন্তু তা না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।
অনেকেই জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস পর্যন্ত বারবার ঘুরেও কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
🏢 পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে বিডিও
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনরত মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
📊 পরিসংখ্যান বলছে কী?
- সালানপুর ব্লকে ইতিমধ্যেই ১২ হাজারের বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন
- আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার মহিলা যুক্ত ছিলেন
- বর্তমানে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের জন্য প্রায় ২০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে
এই হিসাব থেকেই স্পষ্ট, এখনও বড় সংখ্যক মহিলা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
📄 তালিকা প্রকাশ, কিন্তু সমস্যা রয়েই গেল
পঞ্চায়েত স্তরে একটি তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে কারা ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের আবার অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে যদি কারও নাম আগে থেকেই নথিভুক্ত থাকে, তাহলে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

☎️ হেল্পলাইন চালু
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যেকোনও সমস্যা বা তথ্যের জন্য মহিলারা ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারেন। আবেদনকারীরা তাঁদের নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে সরাসরি অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারবেন।
⚠️ সবাই কি পাবেন এই সুবিধা?
প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সব উপভোক্তা অন্নপূর্ণা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। প্রকৃত আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাচাই প্রক্রিয়ায় অনেক নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🔍 এখন দেখার বিষয়
প্রশাসনের আশ্বাসে কি মহিলাদের ক্ষোভ কমবে?
নাকি আগামী দিনে এই বিক্ষোভ আরও বড় আকার নেবে?
👉 আপাতত সালানপুরে একটাই দাবি জোরালো—
“আমাদের প্রাপ্য টাকা চাই, এখনই চাই!”


