কলকাতা: প্রায় এক দশক পর অবশেষে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই গুলিকাণ্ড তদন্তে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলো বিধানসভায়। সোমবার রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
⚡ ‘শহিদদের রক্তে রাজনীতি’—বিস্ফোরক অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন—
📢 “২১ জুলাইয়ের আবেগ এবং শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পদ ও রাজনৈতিক লাভ করেছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়নি।”
এই মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
📄 ২০১৪-তে জমা, ২০২৬-এ প্রকাশ!
👉 জানা গেছে—
- ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে
- ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেই রিপোর্ট জমা পড়ে
👉 তবে সেই সময় তা প্রকাশ করা হয়নি।
👉 বর্তমানে নতুন সরকার সেটি বিধানসভায় পেশ করেছে।
👥 ৪৪ জনকে তলব, কিন্তু মমতা নন!
কমিশনের রিপোর্টে মোট ৪৪ জনকে তলব করার উল্লেখ রয়েছে।
👉 তাঁদের মধ্যে—
- প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
- বিমান বসু
- সোমেন মিত্র
- প্রদীপ ভট্টাচার্য
- মদন মিত্র
- সৌগত রায়
👉 পাশাপাশি—
- মনীশ গুপ্ত
- এন. কৃষ্ণমূর্তি
- তুষারকান্তি তালুকদার-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক
⚠️ তবে তৎকালীন আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়নি, যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
❗ তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ
রিপোর্টে উল্লেখ—
- ঘটনাটির সঠিক তদন্ত হয়নি
- আইনি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এক্সিকিউটিভ ইনকোয়ারি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি
👉 এমনকি অভিযোগ—
- গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি গায়েব করা হয়েছে
- শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে
🔫 গুলির নির্দেশে রহস্য ঘনীভূত
👉 কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—
তৎকালীন পুলিশ কমিশনার তুষারকান্তি তালুকদার
👉 স্পষ্ট করে জানাননি
কে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল
এই প্রশ্ন আজও রহস্যের আড়ালেই রয়ে গেছে।
📍 ‘বিনা প্ররোচনায় গুলি’—রিপোর্টের দাবি
কমিশন জানিয়েছে—
- মেয়ো রোড
- রেড রোড
- ডোরিনা ক্রসিং
- এসপ্ল্যানেড
👉 এই সব এলাকায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর
কোনও প্ররোচনা ছাড়াই গুলি চালানো হয়,
যা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক ছিল।
🗣️ পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী
পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বক্তব্যও তুলে ধরেন।
👉 তিনি দাবি করেছিলেন—
- গুলিকাণ্ডের জন্য দায়ী ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মনীশ গুপ্ত
- অথচ পরে তাঁকে মন্ত্রী করা হয়
👉 প্রশ্ন তোলেন—
তাঁর ভূমিকা কমিশন কেন দায়ী বলে মানেনি?
🌟 ফের উত্তপ্ত বাংলা রাজনীতি
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই—
- নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে
- শাসক ও বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে
👉 ২১ জুলাই ১৯৯৩ শুধু একটি ঘটনা নয়, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। নতুন করে সামনে আসা এই রিপোর্ট সেই পুরনো ক্ষতকে আবারও নাড়া দিল।

