নভেম্বরে কলকাতা পুরভোট! ওয়ার্ড বাড়ছে ১৪৪ থেকে ২০০

কলকাতা: কলকাতা পুরনিগম নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ভোট সম্পন্ন করে নতুন বোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করেছে পুর প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরেই পুরভোট আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে প্রশাসন।

🚨 দ্রুতগতিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস

সোমবার কলকাতা পুরনিগমে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানান, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত রিপোর্ট আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে জমা পড়বে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হবে নির্বাচনের রূপরেখা।

মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করেছেন, নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস না হলে কোনওভাবেই পুরভোট অনুষ্ঠিত হবে না। পাশাপাশি, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্বাচিত বোর্ডকে দায়িত্বভার গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

🏙️ বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এই পুনর্বিন্যাসের ফলে কলকাতা পুরনিগমের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত—ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করা হবে। এর ফলে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে রাখা হবে, যাতে প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

📊 বোरो কাঠামো অপরিবর্তিত

যদিও পুরনিগমের মোট ১৬টি বোरो অপরিবর্তিত থাকবে, তবে প্রতিটি বোরোর অধীনে ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এতে প্রশাসনিক কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

🗳️ বুথে বদল নয়, বদলাবে সীমানা

পুর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় ভোটকেন্দ্র বা বুথের কোনও পরিবর্তন হবে না। শুধুমাত্র ভোটারদের বণ্টনের ভিত্তিতে ওয়ার্ডের নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হবে।

⚙️ একাধিক স্তরে কাজ চলছে

এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় স্তরে দুটি কমিটির পাশাপাশি, ১৬টি বোরোর জন্য আলাদা বোरो-স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর ডিলিমিটেশনের বিস্তারিত নকশা প্রকাশ করবে।

⚡ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন সীমানা নির্ধারণের ফলে পুরভোটে নতুন মুখের উত্থান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে পুরনো শক্তির ভারসাম্যেও বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।

📌 এখন নজর ২৭ জুলাই

সব মিলিয়ে এখন সবার চোখ ২৭ জুলাইয়ের দিকে, যেদিন ডিলিমিটেশন রিপোর্ট প্রকাশিত হবে। এরপরই পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনা জোরদার।

Leave a comment