আসানসোল পুরসভায় বড় ধাক্কা! একসাথে ৪ তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা, I-PAC নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

আসানসোল | নিজস্ব সংবাদদাতা

আসানসোল পুরনিগমের রাজনীতিতে শুক্রবার এক বড়সড় চমক সামনে এল। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বোড়ো চেয়ারম্যানসহ মোট চারজন কাউন্সিলর—অশোক রুদ্র, ডা. দেবাশীষ সরকার, চৈতন্য মাজি এবং শবানি বিশ্বাস—হঠাৎই নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁরা সকলেই নিজেদের ইস্তফাপত্র আসানসোল পুরনিগমের কমিশনারের দপ্তরে জমা করেছেন, যার ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

‘সঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছিল না’—ইস্তফার কারণ

ইস্তফা দেওয়া কাউন্সিলরদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে—এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা মনে করেন, পদে থেকে জনসেবায় সঠিক ভূমিকা পালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই জনগণের স্বার্থে তাঁরা নিজেরাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

চার কাউন্সিলরই তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের কর্মী ও নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও নেতৃত্ব সেইভাবে প্রতিবাদে সরব হচ্ছে না। এই নীরবতা তাঁদের হতাশ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

I-PAC নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে I-PAC (ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি) নিয়ে। ইস্তফা দেওয়া কাউন্সিলরদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এখন I-PAC-এর “কঠপুতলি” হয়ে পড়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা এটিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।

অশোক রুদ্রের কড়া মন্তব্য

প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলর অশোক রুদ্র বলেন, “দলের কর্মীদের উপর হামলা হলেও শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। আমরা মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছিল না বলেই পদত্যাগ করেছি।” তিনি I-PAC-এর প্রভাব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

ডা. দেবাশীষ সরকারের বক্তব্য

অন্যদিকে, কাউন্সিলর ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, বিজেপির উত্থান এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিলেন না। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি ইস্তফার ঘটনা নয়—বরং তৃণমূলের ভিতরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আরও ইস্তফার সম্ভাবনা?

দলীয় সূত্রে খবর, আরও কিছু জনপ্রতিনিধি একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে আসানসোল পুরনিগমে তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

👉 এই ইস্তফা শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a comment