জামুড়িয়া | নিজস্ব সংবাদদাতা
জামুড়িয়ার চুরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দেশর মোহন গ্রামে ‘বাংলা আবাস যোজনা’কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিতর্ক সামনে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্রামের প্রায় ৭ থেকে ৮ জন বাসিন্দা এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল। উপভোক্তাদের দাবি, প্রকল্পের টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও জমা পড়েছিল।
কাটমানির অভিযোগে চাঞ্চল্য
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে ‘কাটমানি’ দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে ৫ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই অনেকেই সেই টাকা দিয়েছেন বলে দাবি।
প্রথম কিস্তির পর থমকে গেল বাড়ির কাজ
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, কাটমানি দেওয়ার পর তাঁরা প্রথম কিস্তি হিসেবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পেলেও, এরপর আর কোনও অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে আসেনি। ফলে বাড়ি তৈরির কাজ মাঝপথেই থেমে গেছে এবং তাঁরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন।
অভিযোগ—এখন আর কথা শুনছেন না নেতারা
অভিযোগ আরও গুরুতর—যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, এখন তাঁদের বাড়িতে গেলে গ্রামবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানালেও কোনও কর্ণপাত করা হচ্ছে না।
গ্রামে বৈঠক, উঠল পদক্ষেপের দাবি
এই পরিস্থিতিতে আজ গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যাঁরা কাটমানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সকলেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের ইঙ্গিত
এই বৈঠকে স্থানীয় বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার নেতা শেখ মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে শুরু করেছে। তিনি গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
👉 এই ঘটনায় একদিকে যেমন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে, তেমনই সাধারণ মানুষের স্বপ্নের বাড়ি পাওয়ার লড়াই যে কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে, সেটাও স্পষ্ট হচ্ছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের দিকে—এই অভিযোগের তদন্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

