কুলটির সমস্যায় সরব কংগ্রেস! ডিএম অফিসে জমা পড়ল বিস্ফোরক অভিযোগপত্র

আসানসোল: কুলটি বিধানসভা এলাকার একাধিক জনসমস্যা নিয়ে নতুন করে সরব হল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কুলটি ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি সুকান্ত দাস জেলা শাসকের (ডিএম) দফতরে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে এলাকার উন্নয়নের ধীরগতি, তীব্র পানীয় জল সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নাগরিক পরিষেবার অভাব নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সুকান্ত দাস অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পরেও সাধারণ মানুষের সমস্যার কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নিয়ম ও শর্ত বারবার বদলানোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতিরও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও জানান, কুলটি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত থমকে রয়েছে। বহু ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছাত্রছাত্রী ও যুবকদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না পাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

পানীয় জল সংকট নিয়ে সুকান্ত দাস বলেন, কোটি টাকার জল প্রকল্প ঘোষণার পরেও আজও বহু এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছায়নি। গ্রীষ্মের দাবদাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত প্রকল্পগুলির কাজ সম্পন্ন করে এলাকাবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে খুন, নিখোঁজ এবং মৃতদেহ উদ্ধারের মতো ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর প্রেক্ষিতে আরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পুলিশের টহলদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও নিয়ামতপুর থেকে ডিসেরগড় পর্যন্ত অসম্পূর্ণ সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করা, দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সুবিধাভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং উচ্ছেদ অভিযানের সময় গরিব পরিবারের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে।

কুলটি ব্লক কংগ্রেস জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত করা হয়। এখন দেখার, প্রশাসন এই দাবিগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কুলটির মানুষের সমস্যার কতটা সমাধান হয়।

Leave a comment