সরকার বদলালেও থামেনি ‘ঝাড়খণ্ড লটারি’! কুলটি-সালানপুরে বেআইনি সিন্ডিকেটের দাপট

single balaji

কুলটি/সালানপুর:
রাজ্যে সরকার পরিবর্তন ও নতুন প্রশাসন গঠনের পরও আসানসোল সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল কুলটি ও সালানপুরে ‘ঝাড়খণ্ড লটারি’ নামে পরিচিত অবৈধ লটারির রমরমা ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে

⚠️ সরকার বদলাল, কিন্তু বন্ধ হল না অবৈধ ব্যবসা

গত মাসে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সরকার বদল হলেও বাস্তবে অবৈধ লটারি সিন্ডিকেট আগের মতোই সক্রিয়। প্রশ্ন উঠছে—পুলিশের চোখের সামনে কীভাবে এই বেআইনি কারবার চলছে?

💼 নির্বাচনের আগে বড়সড় অভিযান

এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নাকা তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ লটারি টিকিট ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল
তখন প্রশাসনের তৎপরতায় সাময়িকভাবে এই ব্যবসা বন্ধ হলেও, নির্বাচন শেষ হতেই আবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই চক্র

📍 কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে জাল?

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই অবৈধ ব্যবসার মূল কেন্দ্র কুলটি। সেখান থেকে এর জাল ছড়িয়েছে—

  • নিয়ামতপুর
  • চৌরঙ্গি
  • কল্যাণেশ্বরী
  • দেন্দুয়া
  • সালানপুর
  • রূপনারায়ণপুর

পুরো নেটওয়ার্কটি ছোট ছোট এজেন্ট ও খুচরো বিক্রেতাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে

ezgif 22b6a523914e707e 300x300 1

🎯 কীভাবে চলে এই খেলা?

এই অবৈধ লটারিতে সরকারি বৈধ লটারির ফলাফল ব্যবহার করা হয়

  • দিনে তিনবার ড্র হয়
  • টিকিটের দাম মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা

বেশি কমিশনের লোভে বিক্রেতা এবং রাতারাতি ধনী হওয়ার আশায় সাধারণ মানুষ এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয়—এই পুরো ব্যবসা বেআইনি হওয়ায় সরকার কোনও রাজস্ব পাচ্ছে না

🕵️ কারা আছে এই সিন্ডিকেটের পেছনে?

স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকটি নাম—

  • কুলটির দানিশ ও রবিন
  • চৌরঙ্গির চন্দন, যিনি বিভিন্ন এলাকায় টিকিট সরবরাহ করেন
  • মিহিজামের রাজু, যিনি রূপনারায়ণপুর এলাকায় নেটওয়ার্ক চালান
  • নিয়ামতপুরের সঞ্জয়, অন্তু, বাবলু ও উত্তম—যাদের নামও সন্দেহের তালিকায়

পুলিশের নজর এড়াতে এখন হাতে লেখা পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনও ডিজিটাল প্রমাণ না থাকে।

🗳️ রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে
বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরকে দোষারোপ করছে।

👉 বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায় বলেন:
“অবৈধ ব্যবসা বন্ধে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। দোষীদের কাউকে ছাড়া হবে না।”

👉 তৃণমূল নেতা শুভাশিস মুখার্জি পাল্টা বলেন:
“ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই যদি এই ব্যবসা আবার শুরু হয়, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কারা এর পেছনে রয়েছে।”

🚔 পুলিশের দাবি

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে, নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং আগেও বহু টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, সন্দেহভাজন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শীঘ্রই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে

⚡ এলাকায় চাঞ্চল্য

এই পুরো ঘটনার পর কুলটি ও সালানপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে
স্থানীয় বাসিন্দারা এখন জানতে চাইছেন—
👉 এই বিশাল চক্রের আসল মাথা কে?
👉 আর কবে পুরোপুরি বন্ধ হবে এই বেআইনি কারবার?

পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ—আইনশৃঙ্খলা, রাজনীতি ও জনস্বার্থ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এই ইস্যু।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 16.13.03
ghanty

Leave a comment