আসানসোল:
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা তথাকথিত “ডেভেলপমেন্ট ফি” আদায় ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি-র নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক সংগঠনগুলি এই দৈনিক অর্থ সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
🚨 ১৫ বছরের আদায়, কিন্তু উন্নয়ন কোথায়?
অভিযোগ অনুযায়ী—
👉 গত প্রায় ১৫ বছর ধরে বাসস্ট্যান্ড থেকে চলাচলকারী বাসগুলির কাছ থেকে
👉 প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত “ডেভেলপমেন্ট ফি” আদায় করা হয়েছে
কিন্তু বাস্তবে—
❗ যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল নেই
❗ শৌচাগার ও অপেক্ষাকক্ষের অবস্থা শোচনীয়
❗ চালকদের জন্যও নেই ন্যূনতম সুবিধা
💰 লাখ লাখ টাকা, নেই স্পষ্ট হিসাব
বিজেপি নেতাদের দাবি—
👉 উন্নয়নের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে
👉 কিন্তু সেই অর্থ কোথায় খরচ হয়েছে, তার কোনও স্বচ্ছ হিসাব নেই
নীলু হাজরা অভিযোগ করে বলেন—
👉 প্রতিদিন শতাধিক বাস বাসস্ট্যান্ড থেকে চলাচল করে
👉 দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে
➡️ যদি এই টাকা আসানসোল পৌরনিগম-এর তহবিলে জমা হয়ে থাকে,
তাহলে তার পূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে
📜 ২০১৪ সালের চিঠি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক
এই ইস্যু আবার সামনে আসে যখন—
রাজু আহলুওয়ালিয়া একটি পুরনো চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন
👉 ২০১৪ সালে তৎকালীন মেয়র ও প্রাক্তন বিধায়ক
তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন
👉 অভিযোগ, ওই চিঠির ভিত্তিতে
অশিম মিত্র-কে
✔️ প্রতি বাসে ৫ টাকা করে ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়
👉 আগস্ট ২০০৯ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত—
✔️ প্রায় ২৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়
✔️ কিন্তু জমা পড়ে মাত্র ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৫০ টাকা
❗ বাকি টাকা কোথায় গেল—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য
📄 আরটিআই-এ চাওয়া হল পূর্ণ তথ্য
তথ্যের অধিকার আইন-এর মাধ্যমে রাজু আহলুওয়ালিয়া জানতে চেয়েছেন—
👉 কোন নিয়মে ব্যক্তিগতভাবে ফি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল?
👉 মোট কত টাকা আদায় হয়েছে?
👉 কত টাকা পৌরনিগমে জমা পড়েছে?
👉 কোনও সরকারি রসিদ দেওয়া হতো কি না?
তিনি আরও অভিযোগ করেন—
👉 স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই ঘনিষ্ঠদের টেন্ডার দেওয়া হয়
👉 যার ফলে দুর্নীতি বাড়ছে
🏛️ তদন্তের দাবিতে সরব বিধায়ক
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন—
👉 যদি পৌরনিগমের নামে অবৈধভাবে টাকা তোলা হয়ে থাকে
👉 তাহলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি
👉 দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত
তিনি আরও বলেন—
❗ “কাট মানি বা সিন্ডিকেট সংস্কৃতিকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না”
🚍 প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আদায়?
তথ্য অনুযায়ী—
👉 বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩৫০টি মিনিবাস ও
👉 ২৫০টি বড় বাস চলাচল করে
👉 যদি প্রতিটি বাস থেকে ১০–২০ টাকা নেওয়া হয়—
➡️ তাহলে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আদায় সম্ভব
➡️ যা মাস ও বছরে গিয়ে দাঁড়ায় লক্ষাধিক টাকায়
😡 চালকদের ক্ষোভ বাড়ছে
শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ—
👉 অনেক চালক ভয় ও চাপে মুখ খুলতে পারেন না
👉 প্রতিবাদ করলে হেনস্থা ও চাপ সৃষ্টি করা হয়
❓ বড় প্রশ্ন রয়ে গেল
👉 এত বছর ধরে যদি “ডেভেলপমেন্ট ফি” নেওয়া হয়ে থাকে—
তাহলে—
❗ বাসস্ট্যান্ডে মৌলিক পরিষেবার উন্নতি কেন হয়নি?
📢 উপসংহার
আসানসোল বাসস্ট্যান্ডের এই ঘটনা এখন শুধু একটি স্থানীয় বিতর্ক নয়,
বরং এটি দুর্নীতি, স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
👉 এখন সকলের নজর জেলা প্রশাসন ও পৌরনিগমের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বছরের পর বছর ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ নামে তোলা এই টাকা আসলে কোথায় গেল? এবং আদৌ কি নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে?















