পাণ্ডবেশ্বর, ৬ মে ২০২৬ :
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর গোটা রাজ্য জুড়ে এখনও উৎসবের আবহ বজায় রয়েছে। ২০৭টি আসনে বিপুল জয় পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতা ও বিধায়কদের অভিনব উপায়ে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। আর সেই তালিকাতেই এবার নতুন সংযোজন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির ‘মাছ সংবর্ধনা’।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কর্মীরা বিশাল এক কাতলা মাছ উপহার দিয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে বরণ করছেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং এক্স-এ। অনেকেই এই ঘটনাকে “বাংলার সংস্কৃতির রাজনৈতিক রূপ” বলে ব্যাখ্যা করছেন।
বাংলার সংস্কৃতিতে মাছ শুধুমাত্র খাবার নয়, এটি শুভ, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বড় কোনও সাফল্য বা শুভ উপলক্ষে ‘মাছ-ভাত’ বাঙালির চিরাচরিত উদযাপনের অংশ। সেই আবেগকেই এবার রাজনৈতিক বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত করল বিজেপি শিবির।
স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী বলেন—
“দিদির আমলে মৎস্যজীবীরা খুব কষ্টে ছিলেন। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসায় গঙ্গা ও দামোদরের মাছ আবার মানুষের থালায় ফিরবে। জিতেন্দ্র দাকে মাছ উপহার দিয়ে আমরা নতুন সমৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিনব সংবর্ধনা শুধুমাত্র আবেগ নয়, এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। বাংলার সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং আবেগকে সামনে রেখে বিজেপি যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে, এই ঘটনাই তার বড় উদাহরণ।
বাড়ছে জিতেন্দ্র তিওয়ারির রাজনৈতিক গুরুত্ব
একসময় আসানসোল পুরনিগমের মেয়র ছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার পর ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই পশ্চিম বর্ধমানের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা— রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে জিতেন্দ্র তিওয়ারি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন। দলের অন্দরেও তাঁর গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল ছবি
বিশাল কাতলা মাছ হাতে জিতেন্দ্র তিওয়ারির ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল। কেউ লিখেছেন “এটাই আসল বাঙালিয়ানা”, আবার কেউ বলছেন “মাছ দিয়েই বাংলার রাজনৈতিক বার্তা দিল বিজেপি”।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলার রাজনৈতিক আবহে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাকে তারই এক প্রতীকী ছবি বলে মনে করা হচ্ছে।















