দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান:
প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT), দুর্গাপুর-এ এক চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সোমবার সকালে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎই উপর থেকে নিচে পড়ে যান বিদ্যাপতি রোডের বাসিন্দা কানাই বরুয়া, এবং তাতেই তার মৃত্যু ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাজের সময় কোনও সেফটি বেল্ট ছিল না তার পরনে। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
⚠️ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানেও নিরাপত্তাহীনতা!
মৃতের সহকর্মী শ্রমিকদের অভিযোগ, যে সংস্থা এনআইটি-তে নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে, তারা নিরাপত্তার ন্যূনতম মান বজায় রাখছে না। তাদের প্রশ্ন – এনআইটি’র মত একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন গাফিল সংস্থাকে চুক্তি দিল?
“সেফটি বেল্ট থাকলে কানাইদা বেঁচে যেত,” — বলছেন এক সহকর্মী।
🚩 মৃতদেহ নিয়ে এনআইটি গেট ঘেরাও, পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫:৩০ নাগাদ, অন্যান্য শ্রমিকরা কানাই বরুয়ার মৃতদেহ নিয়ে এনআইটি’র প্রধান গেটে হাজির হন এবং প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের দাবি, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা ও মৃতের পরিবারকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও একটি চাকরি দেওয়া হোক।
🕊️ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক, পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে
ঘটনার পর এনআইটি কর্তৃপক্ষ ও মৃতের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনও সরকারি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হয়নি।
📢 পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের নিরাপত্তা
এই ঘটনা ফের একবার চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিল। এমনকি দেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এমন অবহেলা হয়, তাহলে সাধারণ নির্মাণস্থলে কী পরিস্থিতি?
✍️ সম্ভাব্য দাবিসমূহ:
- ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও একটি স্থায়ী চাকরি পরিবারে একজনকে
- দায়ী ঠিকাদারি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
- সমস্ত নির্মাণ প্রকল্পে বাধ্যতামূলক সুরক্ষা পরিকাঠামো নিশ্চিতকরণ
- এনআইটি-র তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা নিরীক্ষা (সেফটি অডিট)










