কলকাতা: রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মন্ত্রিসভার দপ্তরগুলিতে ব্যাপক রদবদল করল। ১০ জুন ২০২৬ তারিখে নবান্নের তরফে জারি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমোদনের পর বিভিন্ন মন্ত্রীর দায়িত্ব নতুন করে বণ্টন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতে থাকছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, এবং কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। এছাড়াও, যেসব দপ্তর এখনও বণ্টিত হয়নি, সেগুলির দায়িত্বও তাঁর অধীনেই থাকবে।
মন্ত্রিসভায় নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, যিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জল সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পলকে দেওয়া হয়েছে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তর। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর। স্বপন দাশগুপ্তকে দেওয়া হয়েছে অর্থ দপ্তরের গুরুদায়িত্ব।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দারের নাম। তাঁকে দেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই) এবং গণপূর্ত দপ্তর (পিডব্লিউডি)। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে ডাঃ শারদাবত মুখার্জিকে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ হিসেবে বিবেচিত।

রাজ্য সরকার শুধু মন্ত্রিসভার মধ্যেই নয়, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। মালতি রাভা রায়, রাজেশ মাহাতা এবং ডাঃ ইন্দ্রনীল খানকে বিভিন্ন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রদবদল শুধু প্রশাসনিক নয়, এর মধ্যে রয়েছে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলও। উন্নয়নমূলক কাজকে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্ব পেয়ে মন্ত্রীরা কীভাবে নিজেদের দপ্তরে কাজের গতি বাড়ান এবং সাধারণ মানুষের কাছে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন। এই রদবদল রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।















