কলকাতা: আজ রাজ্যের নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে, যা ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল—সবখানেই তীব্র আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের এই প্রথম বাজেট হওয়ায় প্রত্যাশার পারদ চড়েছে বহুগুণ।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তব পরীক্ষা
বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কতটা প্রতিফলন এই বাজেটে দেখা যাবে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছেন—এই বাজেট কি সত্যিই তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে?
দুপুর ১২টায় বাজেট পেশ
বিধানসভার বাজেট অধিবেশন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করবেন। এই বাজেট আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের রূপরেখা স্পষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লি বৈঠকের পর বাড়ছে জল্পনা
বাজেট পেশের আগে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করা যে বড় চ্যালেঞ্জ, তা আগেই স্বীকার করেছেন তিনি।
ডিএ নিয়ে কর্মীদের নজর
রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। বিভিন্ন কর্মী সংগঠন আশা করছে, এই বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত বড় ঘোষণা আসতে পারে।
কৃষক ও শিল্পের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ফলতা এলাকায় কৃষকদের জন্য নতুন প্রকল্পের কথা বলেছেন। ফলে বাজেটে কৃষি খাতে বড় ঘোষণা আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। পাশাপাশি রাজ্যকে শিল্পবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে নতুন নীতি ঘোষণার দিকেও নজর রয়েছে।

সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে কি সবুজ সংকেত?
তাজপুরের পরিবর্তে দাদনপাত্রবারে সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। এই প্রকল্পে বাজেটে কোনও ঘোষণা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তুঙ্গে।
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বে রাজ্যের আর্থিক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণ করবে এই বাজেট
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেট শুধু আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কী রূপরেখা নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে এই বাজেটেই।
সব মিলিয়ে, আজকের বাজেট রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ কতটা সুগম করবে, তারই উত্তর খুঁজছে গোটা বাংলা।


