পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আত্মসমালোচনা। মূল প্রশ্ন একটাই—যেখানে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি বিপুল সাফল্য পেয়েছিল, সেখানে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কেন কার্যত ব্যর্থ হল?
📞 ‘দিদিকে বলো’—জনসংযোগের সফল মডেল
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর সংস্থা আই-প্যাক-এর পরামর্শে চালু করেন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি।
👉 একটি হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারতেন
👉 অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় মানুষের আস্থা বেড়েছিল
👉 সরকার ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল
এরই সুফল মেলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি মাত্র ৭৭টি আসনে সীমাবদ্ধ ছিল।
⚠️ ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’—নাম বদল, কিন্তু প্রভাব নেই
২০২৩ সালের ১৯ মে ‘দিদিকে বলো’-র নতুন রূপ হিসেবে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ চালুর ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে হেল্পলাইন শুরু হলেও এবার বড় পরিবর্তন ছিল—
👉 আই-প্যাকের বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি আধিকারিকদের
👉 পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে
দলীয় নেতা থেকে সাধারণ মানুষ—সবার অভিযোগ:
❌ ফোন ধরাই হতো না বেশিরভাগ সময়
❌ অভিযোগের বদলে মিলত শুধু আশ্বাস
❌ বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি
📊 অভিযোগ বাড়ল, কিন্তু ব্যবস্থা নেই
এই হেল্পলাইনে আসা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ—
👉 স্থানীয় নেতাদের দাদাগিরি
👉 দুর্নীতি
👉 শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা
👉 রাস্তা ও পানীয় জলের সংকট
ভবানীপুর সহ একাধিক এলাকায় প্রোমোটার ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বেড়েছিল। জঙ্গলমহল এলাকার এক মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ ওঠে।
তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই সব অভিযোগ কার্যকরভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায়নি।
🥔 আলু বেল্টে ভরাডুবি—বাড়ছে আক্ষেপ
এই বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের আলু উৎপাদনকারী জেলা—পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের ফল হতাশাজনক।
👉 কৃষকরা চাষ ও বিপণন নীতি নিয়ে বহু অভিযোগ করেছিলেন
👉 কিন্তু সেগুলির যথাযথ সমাধান হয়নি
👉 ফলস্বরূপ ভোটে বড় ক্ষতি
দলের একাংশ এখন মনে করছে, সময়মতো জনমত বোঝা গেলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
🗣️ নেতৃত্বের অবস্থান—ব্যর্থতা মানতে নারাজ
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ নেতা এখনও প্রকাশ্যে এই প্রকল্পের ব্যর্থতা মানতে চান না। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন—
👉 এই কর্মসূচির মাধ্যমে বহু দূরবর্তী এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন
👉 নির্বাচনের ফল শুধুমাত্র এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না
👉 ধর্মীয় মেরুকরণের প্রভাবও ছিল
🔍 উপসংহার
‘দিদিকে বলো’ বনাম ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’—এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র একটি হেল্পলাইনের সীমায় নেই। এটি প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক কৌশলের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
👉 কোথায় ভাঙল সিস্টেম?
👉 কেন জনতার আওয়াজ সঠিক সময়ে পৌঁছালো না?
👉 ভবিষ্যতে কি এই ভুল থেকে শিক্ষা নেবে তৃণমূল কংগ্রেস?
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই দিকেই।














