মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেই বড় প্রতিশ্রুতি! শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা—“সব কথা রাখব সময়মতো”

single balaji

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে বড় পরিবর্তনের আবহে বিজেপির বিধায়ক দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী পদে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘোষণার পরই তাঁর প্রথম বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন—“দল যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পূরণ করা হবে।”

নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য কী হবে, তা নিয়েও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং শক্তিশালী আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর এই সাফল্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। অমিত শাহকে তিনি “আধুনিক রাজনীতির চাণক্য” বলে উল্লেখ করেন এবং সভামঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে স্লোগান তোলেন।

শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির মূল মন্ত্র—“সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রচেষ্টা”—উল্লেখ করে বলেন, এই নীতিতেই বাংলার উন্নয়নের পথ নির্ধারিত হবে। তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার বাংলাকে এমন এক রাজ্যে পরিণত করতে চায়, যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মানুষকে যে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন, তা পূরণে সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিই না, তা বাস্তবায়ন করেও দেখাই।” পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, সরকার ও দল উভয়ই বাংলার সংস্কৃতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

নিজের ভাষণে তিনি গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত ভাবনার উল্লেখ করেন—“যেখানে মনের উপর কোনো ভয় থাকবে না এবং মাথা থাকবে উঁচু”—এমন এক বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই এগোতে চায় বিজেপি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে আসেন। অবশেষে দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ পেল।

বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

এদিকে, অমিত শাহ জানিয়েছেন, বিধায়ক দলীয় বৈঠকে একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর নামই প্রস্তাবিত হয়েছিল, যার পর সর্বসম্মতভাবে তাঁকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৩টির মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে। রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—প্রতিশ্রুতি পূরণ করে মানুষের আস্থা অর্জন করা। আর সেই পথেই এগোতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী, এমনটাই স্পষ্ট তাঁর প্রথম বক্তব্যে।

ezgif 22b6a523914e707e
ghanty

Leave a comment