আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল পুরনিগমে হঠাৎ করেই বড় রাজনৈতিক ঘটনা সামনে এসেছে। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়া নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সঞ্জয় নোনিয়া জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র পুরনিগম প্রশাসন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই, বরং সম্পূর্ণ পারিবারিক পরিস্থিতির জন্যই তাঁকে এই কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
তিনি জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন। এই অবস্থায় পরিবারের পাশে থাকা এবং বাবার সেবাযত্ন করা তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে যে বিশ্বাস করে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারছি না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”
সঞ্জয় নোনিয়ার ইস্তফার পর ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় স্তরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে—কেউ তাঁর সিদ্ধান্তকে মানবিক এবং দায়িত্বশীল বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কেউ এর পেছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলেও মনে করছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার জেরে ভবিষ্যতে ওই ওয়ার্ডে উপনির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে আপাতত সঞ্জয় নোনিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সমস্ত মনোযোগ এখন তাঁর বাবার স্বাস্থ্য এবং পরিবারের দায়িত্বের দিকেই থাকবে। আসানসোলের রাজনীতিতে এই ঘটনা যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।















