মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে আবারও নেমে এল মহাঙাইয়ের কোপ। পেট্রোল, ডিজেল এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের পর এবার গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস (এলপিজি)-এর দামও বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত তিন মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দাম বৃদ্ধি করা হল।
নতুন দরের অনুযায়ী, ৭ জুন (রবিবার) থেকে কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ৯৩৯ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রতি সিলিন্ডারে ২৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
📉 টানা চাপের মুখে সাধারণ মানুষ
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে আগে থেকেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাপে ছিলেন। তার মধ্যেই ১ জুন থেকে কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে ৩,২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। এর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
🔍 কেন বাড়ল গ্যাসের দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এলপিজি আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ছে।
🛢️ ছোট সিলিন্ডারেও দাম বৃদ্ধি
শুধু ১৪.২ কেজি নয়, অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে—
- ৫ কেজি সিলিন্ডার: ১০ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৩৫৮ টাকা ৫০ পয়সা
- ১০ কেজি সিলিন্ডার: এখন দাম ৬৯১ টাকা ৫০ পয়সা

📊 দেশজুড়ে একই চিত্র
শুধু কলকাতা নয়, দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও একই হারে দাম বেড়েছে। সেখানে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪২ টাকা হয়েছে।
⚠️ আগেও বেড়েছিল দাম
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ৭ মার্চ গৃহস্থালির গ্যাসের দাম প্রায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
💬 মানুষের প্রতিক্রিয়া
অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এই বাড়তি খরচ রান্নাঘরের বাজেটকে বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে।
🔮 সামনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
👉 সব মিলিয়ে, রান্নার গ্যাসের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে এবং এখন সকলের নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।















