কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিনোদনের আড়ালে চলছিল ভয়ঙ্কর অপরাধের সাম্রাজ্য! রেস্তোরাঁ, বার ও ডান্স বারের ছদ্মবেশে বছরের পর বছর ধরে চলছিল মানবপাচার ও দেহব্যবসার আন্তর্জাতিক চক্র। বৃহস্পতিবার রাতে ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের আসল চেহারা উন্মোচন করে।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, অভিযুক্তরা তরুণী ও দরিদ্র মহিলাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলত, তারপর বাধ্য করত দেহব্যবসায় নামতে। এইভাবে প্রতি মাসে কোটি টাকার অবৈধ আয় হত এই চক্রের।
⚠️ তিনজন কুখ্যাত অভিযুক্ত ধরা পড়ল
ইডি জানিয়েছে, এই মানবপাচার চক্রের মূল হোতা তিনজন—
জগজিৎ সিং, আজমল সিদ্দিকি ও বিষ্ণু মুন্দ্রা।
এদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক FIR দায়ের ও চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই তিনজন ও তাদের সহযোগীরা শহরের একাধিক বার ও রেস্তোরাঁর মালিক বা নিয়ন্ত্রক। সেখান থেকেই চলত মেয়েদের শোষণ ও দেহব্যবসার রমরমা ব্যবসা।
💰 ইডির হানায় উদ্ধার হল কোটি টাকার সম্পদ!
ইডির একাধিক দল বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়।
তল্লাশিতে ₹১.০১ কোটি টাকার নগদ অর্থ, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও জমির দলিলপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এছাড়া দুটি বিলাসবহুল গাড়ি— Land Rover Defender ও Jaguar— জব্দ করা হয়েছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা তাদের অবৈধ উপার্জন ভুয়ো সংস্থা ও নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাদা টাকা হিসেবে ঘুরিয়ে দিত।
🔍 মানবপাচার থেকে অর্থপাচার— এক ভয়ঙ্কর চক্রের গল্প
ED সূত্রে খবর, এই চক্র শুধু কলকাতায় নয়, বরং দক্ষিণ দমদম, দমদম, হাওড়া, ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও সক্রিয় ছিল।
তরুণীদের প্রথমে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আনা হত, পরে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া হত যেন কেউ পালাতে না পারে।
একজন প্রাক্তন কর্মী জানিয়েছেন—
“বাইরে থেকে সবকিছু রেস্তোরাঁর মতো দেখায়, কিন্তু ভিতরে কী চলে, তা ভয়ঙ্কর।”
⚖️ তদন্ত চলছে, আরও বড় নাম সামনে আসতে পারে
ইডি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে রাজ্যের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার যোগ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের খোঁজ পাওয়া গেছে যা এই মামলাকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।
তদন্তকারীদের মতে—
“এই র্যাকেট শুধু মানবপাচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থপাচার ও অপরাধ অর্থনীতির বড় অংশ।”
🔴 শেষ কথা: সমাজের মুখোশের আড়ালে অন্ধকার সাম্রাজ্য!
কলকাতার বার, রেস্তোরাঁ ও ডান্স বারের জগতে যেভাবে মানবপাচারের নেটওয়ার্ক বিস্তার লাভ করেছে, তা প্রমাণ করে যে অপরাধের রং এখন আরও চতুর ও সাংগঠনিক।
ইডির তদন্তে বেরিয়ে আসছে শহরের অভিজাত আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ঙ্কর বাস্তব—
“চাকরির আশায় এসেছিল তারা, ফিরে পেল নরকের বন্দিশালা।”











