জামুড়িয়ার তপসিতে রাতারাতি বদলে গেল রাজনৈতিক ঠিকানা! তৃণমূলের পুরনো দফতরে বিজেপির কার্যালয়

জামুড়িয়া: জামুড়িয়ার তপসি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো দলীয় কার্যালয় এবার বিজেপির কার্যালয় হিসেবে চালু হওয়াকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। রবিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য ফিতে কেটে ওই বিজেপি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পুরনো তৃণমূলের দফতরে বিজেপির নতুন কার্যালয় চালু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন।

২০২১-এর পর তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এই দফতর

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৎকালীন বিধায়ক হরেরাম সিং জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকার তপসিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর ওই কার্যালয় থেকেই তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছিল।

পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে আসে। বেশ কয়েকটি জায়গায় বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগও ওঠে।

বিরোধী দলের কার্যালয় দখল না করার নির্দেশের প্রসঙ্গ

এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় দখল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল।

তাই তপসিতে তৃণমূলের পুরনো কার্যালয় বিজেপির দফতর হিসেবে চালু হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি বিরোধী দলের কার্যালয় দখল না করার নির্দেশই থাকে, তাহলে তপসির এই কার্যালয় কীভাবে বিজেপির ব্যবহারে এল?

🗣️ কী বললেন দেবতনু ভট্টাচার্য?

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য জানান, তপসি এলাকায় বিজেপির কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে দলীয়ভাবে ‘লাভার্থী যোগাযোগ অভিযান’ চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেই সমস্ত প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেওয়াই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই কাজের জন্য দলীয় কর্মীদের আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় স্তরে একটি দলীয় কার্যালয়ের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে বলে তাঁর দাবি।

‘ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিস্থিতিও বদলেছে’

পুরনো তৃণমূল কার্যালয়েই বিজেপির দফতর খোলা হয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে অনেক বিষয়েই পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই তপসিতে বিজেপির কার্যালয় খোলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে রাজ্যে আরও অনেক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বাংলার উন্নয়ন।

⚡ তপসিতে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

পুরনো তৃণমূল কার্যালয়ে বিজেপির নতুন দফতর চালু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্যই এই কার্যালয়ের প্রয়োজন হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে কার্যালয় দখল করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। যদিও কার্যালয়টি কীভাবে বিজেপির ব্যবহারে এল, সেই বিষয়ে কোনও বিস্তারিত নথি বা আনুষ্ঠানিক চুক্তির তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

🔍 সামনে আরও কি বদলাবে রাজনৈতিক কার্যালয়ের ঠিকানা?

তপসির এই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরছে—রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী দিনে কি আরও এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদলাবে?

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নতুন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হবে। ‘লাভার্থী যোগাযোগ অভিযান’-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি এখান থেকে পরিচালনা করা হবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও বাড়ানো হবে।

রবিবারের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তপসির এই রাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী দিনে জামুড়িয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a comment